শরীরে রক্ত কম হলে কি রোগ হয় জানুন

শরীরে রক্ত কম হলে কি রোগ হয়? আপনার রক্তস্বল্পতা থাকলে আপনি কিভাবে বুঝবেন কি কি উপসর্গ ও লক্ষণ আপনার হতে পারে? তা জানা আপনার অত্যন্ত জরুরী। আজকে আলোচনা করব আমরা রক্তস্বল্পতা নিয়ে। রক্তস্বল্পতা বলতে আমরা বোঝাতে চাচ্ছি কারো যদি হিমোগ্লোবিন কম থাকে।

শরীরে-রক্ত-কম-হলে-কি-রোগ-হয়

আপনার শরীরে হিমোগ্লোবিন কম থাকলে কিন্তু আপনার বেশ কিছু উপসর্গ বা লক্ষণ দেখা দিবে এবং আপনি খুব সমস্যায় পড়ে যাবেন । সেজন্য এই আলোচনাটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ । রক্তে  শ্বেত কণিকা , লোহিত কণিকা ও প্লাটিলেট এগুলোর যেকোনো একটা কমে গেলে কিন্তু রক্তস্বল্পতা বলা যেতে পারে ।

পেজ সূচিপত্রঃ শরীরে রক্ত কম হলে কি রোগ হয়

 শরীরে রক্ত কম হলে কি রোগ হয়

আমরা মূলত রক্তস্বল্পতা বলতে লোহিত কণিকার যে ঘাটতি দেখা দেয় এবং বিশেষ করে লোহিত কণিকার ভেতরে থাকা হিমোগ্লোবিনের ঘাটতি দেখা দেয় , তাকে আমরা রক্তস্বল্পতা বলে থাকি । সুতরাং কারো যদি রক্তস্বল্পতা থাকে। হিমোগ্লোবিন কম থাকে তাহলে পরিবারের সেই সদস্যকে চিকিৎসা না করে রেখে দেওয়াটা খুবই বিপদজনক হয়ে যেতে পারে । রক্তস্বল্পতা যদি দীর্ঘমেয়াদী হয়ে থাকলে দেখা যায় বিভিন্ন অর্গান পারফরম্যান্স কমে যায় । 

শরীরের রক্ত কমে গেলে ব্রেন থেকে শুরু করে হাট , কিডনি অন্যান্য সকল অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের উপর কিন্তু এর প্রভাব পড়বে । কারণ হলো এ রক্তের যে হিমোগ্লোবিন যেটা কমে গেলে আমরা রক্তস্বল্পতা বলে থাকি। এই রক্তের হিমোগ্লোবিন সারা দেহে অক্সিজেন ক্যারি করে এবং যার মাধ্যমে আমাদের পুষ্টি উপাদান গুলো আমাদের কোষ , দেহকোষ পেয়ে থাকে । তাই আমাদের যদি হিমোগ্লোবিন কম থাকে তাহলে সারা শরীরে আমাদের অক্সিজেন ক্যারি পারফরম্যান্স টা কমে যাবে ।

যার ফলে আপনার শরীরের সকল কোষগুলো কিন্তু পুষ্টি থেকে শক্তি উৎপাদন থেকে বঞ্চিত হবে । যার কারণে আপনি সামগ্রিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়বেন । তখন সব মিলে শরীরে অসুস্থতার প্রভাব পড়বে । রক্তস্বল্পতার আরেকটি কারণ দেখা যায় যেতে পারে ধীরে ধীরে ওজন বেড়ে যাচ্ছে । তা না খাওয়ার ফলেও হয়ে থাকতে পারে । অনেক সময় রক্তস্বল্পতা বেশি দেখা দিলে হার্টের মতো রোগে অনেকের মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে । তাই নিজেকে সচেতন করে সুস্থ থাকার চেষ্টা করুন।

রক্তস্বল্পতা বোঝার উপায়

আপনার শরীরে রক্তস্বল্পতা আছে বা নেই তা কিভাবে বুঝতে পারবেন ? টেস্ট ছাড়া আপনার বোঝার উপায় হল রক্তস্বল্পতা থেকে থাকলে শরীর দুর্বল লাগবে । একটু হাটতে গেলে বা সিড়ি বেয়ে উঠতে গেলে শরীর  হাঁপাতে থাকবে । শুধু তাই নয় মাথা ঘোরা , বমি বমি ভাব , বুকে ব্যথা ও বুক ধড়ফড় করবে। এছাড়া রক্তস্বল্পতা দেখা দিলে দৈনন্দিন কাজকর্মে আপনার শ্বাসকষ্ট হবে এবং বুক ধড়ফড় করবে । এছাড়া যাদের বেশি পরিমাণ রক্তস্বল্পতা দেখা দেয় তাদের বুকে ব্যথা হতে পারে।

আরো পড়ুনঃ নাক দিয়ে রক্ত পড়ার কারণ ও প্রতিকার

আবার দেখা গেছে যাদের হাটের রক্তনালী ব্লক আছে । তাদের মৃদু রক্তস্বল্পতা হয়ে থাকলেও দেখা গিয়েছে যে অল্প পরিশ্রমে হাঁপিয়ে যাবেন। শুধু তাই নয় দৈনন্দিন কাজকর্ম করতে পারবেন না। কারণ রক্তস্বল্পতা বলতে রক্তে হিমোগ্লোবিন কমে যায় । আর এই হিমোগ্লোবিন কমে গেলে সারা দেহে অক্সিজেন ক্যারি করতে পারে না । তখনই দেখা যায় শরীরের নানা ধরনের জটিলতা এবং অসুস্থতা । শরীর ঝিমঝিম করতে থাকে । কোন কাজে মন বসে না ।

ঔষধ ছাড়াই রক্তস্বল্পতার চিকিৎসা

রক্তস্বল্পতার অন্যতম কারণ হলো নিউট্রিশনাল। অর্থাৎ আইরন বা ফলিক অ্যাসিড ডেফিসিয়েন্সি হয় । অথবা ভিটামিন B12 ডেফিসিয়েন্সি হয়ে থাকে। এই তিনটি উপাদানের কারনে রক্তস্বল্পতা বেশি দেখা দেয় । এই তিনটি খাবার আপনি যদি পর্যাপ্ত পরিমাণ খান তাহলে আপনার  রক্তস্বল্পতা দূর হয়ে যাবে । তার মধ্যে সবচেয়ে কমন হল আয়রনের ডেফিসিয়েন্সি। আয়রন জাতীয় অনেক খাবার আছে তা আমরা যদি ভাগ করি অ্যানিমেল সোর্স থেকে এবং প্লান্ট সোর্স থেকে। 

প্লান্টসোর্স থেকে যে আইরন আসে। যেমনঃ কচু শাক, কাঁচা কলা , বিভিন্ন শাকসবজি ও ফল এগুলোতে আয়রন আছে । কিন্তু এই প্ল্যান্ট সোর্স থেকে যে আইরন আসে তা পাকস্থলী এব্জারভিশন হয়ে আসতে দেরি হয় । অথচ এনিমেল সোর্স থেকে যে আয়রন পাওয়া যায় তা পাকস্থলীতে দ্রুত এবজার ভিশন হয় । এনিমাল সোর্স এর আয়রন হল রেডমিট , মুরগি ও হাসের গিলা কলিজা এগুলোতে পর্যাপ্ত পরিমাণে আইরন থাকে । 

সামুদ্রিক মাছেও প্রচুর আয়রন আছে। এই খাবারগুলো দ্রুত অ্যাবজারভেশন হওয়ার কারণে আয়রনের ঘাটতি দ্রুত পূরণ হয়ে থাকে । যাদের হাটের সমস্যা আছে তারা কিন্তু রেডমিক এভয়েড করে সামুদ্রিক মাছ খেতে পারেন । সামুদ্রিক মাছে কিন্তু কোলেস্টেরল নাই এবং হার্টের জন্য খুবই ভালো । সামুদ্রিক মাছে প্রচুর পরিমাণ আয়রন থাকার ফলে যেকোনো বয়সে ব্যক্তিরা তা খেতে পারেন এবং এতে সুস্থ থাকার সম্ভাবনা বেশি থেকে থাকে।

মেয়েদের রক্তস্বল্পতা কেন হয়

 শরীরে রক্ত কম হলে কি রোগ হয় তা জানা প্রত্যেকের জরুরী । রক্তস্বল্পতা বা অ্যানিমিয়া । যা পুষ্টি ঘাটতি থেকে হয়ে থাকে । মেয়েদের রক্তস্বল্পতা অনেক কারণ থেকে থাকতে পারে। প্রতিমাসে রক্তস্রাবের কারণে শরীরে আয়রনের ঘাটতি দেখা দিতে পারে । একজন মেয়ে যখন মা হতে যান, তখন গর্ভাবস্থায় শরীরে আইরনের চাহিদা বেড়ে যায় । এর ফলে খাবারের মাধ্যমে এবং কিছু সাপ্লিমেন্টরের মাধ্যমে তা পূরণ করা হয়ে থাকে। যদি তা সময় মতো না নেওয়া হয়ে থাকে তাহলে দেখা যায় যে নিউটিসিয়ান ডেফিসিয়েন্সি ।

আরো পড়ুনঃ পায়ের নখ মরে যায় কেন - ও করণীয় 

আয়রন ফলিক অ্যাসিড বা ভিটামিন বি টুয়েলভ যথেষ্ট পরিমাণে শরীরে না থাকার কারণে ও রক্তস্বল্পতা দেখাতে পারে । এর ফলে দেখা যায় যে শরীরে পর্যাপ্ত পরিমাণ রক্ত তৈরি হয় না অর্থাৎ রক্তস্বল্পতা দেখা দেয় । বিভিন্ন ধরনের দুরারোগ্য ব্যাধি আলসার , ক্যান্সার , কিডনি রোগ বা লিভার জনিত সমস্যা ইত্যাদি রোগের কারণে রক্তস্বল্পতা হতে পারে। আর তাই রক্তস্বল্পতার কারণে মেয়েদের যে লক্ষণগুলো দেখা দেয় তা হলঃ

  • ক্লান্তি 
  • দুর্বলতা
  •  মাথা ঘোরা
  •  বমি বমি ভাব 
  • শ্বাসকষ্ট 
  • চামড়া ফ্যাকাসি হয়ে যাওয়া
  •  শীত শীত অনুভূতি হওয়া 
  • মাথাব্যথা 
  • ঠোঁট ফেটে যাওয়া 
  • নখ ভঙ্গুর হয়ে যাওয়া

মেয়েদের রক্তস্বল্পতার চিকিৎসা

শরীরে রক্ত কম হলে কি রোগ হয় তা একজন সচেতন ব্যক্তি হিসেবে আপনার জানা অত্যন্ত প্রয়োজন। রক্তস্বল্পতা কেন হচ্ছে বাকি কারণে হচ্ছে তার ওপর নির্ভর করে চিকিৎসক চিকিৎসা দিয়ে থাকেন । সাধারণত চিকিৎসা পদ্ধতিগুলোর মধ্যে যে পন্থাগুলো রয়েছে তা হলো, শরীরে আয়রনের অভাব ঘটে থাকলে রক্তস্বল্পতা পূরণের জন্য আয়রন সম্পূরক দেওয়া হয় । আবার ভিটামিন বি টুয়েলভ ভ বা ফলিক এসিড শরীরে অভাব দেখা দিলে তা খাবারের পাশাপাশি সাপ্লিমেন্টারি হিসেবেও রোগীকে দিয়ে থাকা হয়। কারণ সাপ্লিমেন্টারি দিলে পারে তাড়াতাড়ি রক্তস্বল্পতা দূরীকরণ করা সম্ভব হয়ে থাকে ।
শরীরে-রক্ত-কম-হলে-কি-রোগ-হয়

অনেক সময় দেখা গেছে যে মেয়েদের রক্তক্ষরণের কারণে রক্তস্বল্পতা দেখা দেয় । তখন খাবারের পাশাপাশি সাপ্লিমেন্টারি ব্যবহার করা হয়ে থাকে । খাবারে রেডমিট বা কলিজা হাঁস-মুরগির গিলা খেতে পারলেও রক্তস্বল্পতা তাড়াতাড়ি দূর করা যায় । কলার গাছের মোচা খেতে পারলেও প্রচুর পরিমাণ আয়রন পাওয়া যেতে পারে । মেয়েদের যেহেতু বিভিন্ন কারণে রক্তস্বল্পতা দেখা দেয় সেই হত চিকিৎসকের চিকিৎসা পদ্ধতি অনুযায়ী রোগ নির্ণয় করে অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপন থেকে শুরু করে কেমোথেরাপি পর্যন্ত দেওয়া যেতে পারে ।

আয়রনের ঘাটতির কারণ

অপুষ্টিজনিত কারণে আয়রনের ঘাটতি সাধারণত হয়ে থাকে । খাদ্যে পর্যাপ্ত পরিমাণ আয়রন না থাকলে এর অভাব দেখা দেয় । আর তাই গর্ভাবস্থায় নারীদের অতিরিক্ত আয়রনের প্রয়োজন পড়ে । কিন্তু দেখা যায় যে আমাদের দেশে গর্ভাবস্থায় মায়েরা অনেকক্ষেত্রে পর্যাপ্ত পরিমাণে পুষ্টিকর খাবার গ্রহণের সুযোগ পেয়ে থাকেন না । আয়রনের ঘাটতি মেয়েদের হওয়ার অন্যতম কারণ হলো ঋতুস্রাব । এর কারণেও নারীরা আয়রনের ঘাটতিতে ভুগে থাকেন ।

ঋতুস্রাবের সময় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ফলেও দেখা গিয়েছে যে আয়রনের ঘাটতি । দীর্ঘমেয়াদি রক্তক্ষরণ হলেও আইরনের ঘাটতি হয়ে থাকে। পেকটিকাল স্যার,  পাইলসের মতো জটিলতার কারণে আয়রনের ঘাটতি হয়ে থাকে । ফলে রক্তস্বল্পতা দেখা দিয়ে থাকে । রক্তস্বল্পতা বা অ্যানিমিয়া সাধারণত ছেলেদের চেয়ে মেয়েদের বেশি দেখা দেয় । আর এদের মধ্যে লক্ষণ দেখা যায় যে , চোখ মুখ ফ্যাকাসে হয়ে যায় , দুর্বল লাগে , চোখ ঝাপসা দেখায় , মুখে ঘা থাকে ।

রক্তস্বল্পতা কেন হয়

শরীরে রক্ত কম হলে কি রোগ হয় তা একজন সচেতন ব্যক্তি হিসেবে জানা উচিত । আমাদের শরীরে রক্তস্বল্পতা হতেই পারে । রক্তে হিমোগ্লোবিন তৈরির প্রধান যে উপাদান আছে তা হল আয়রন । আর তা শরীরে ঘাটতি দেখা দিলে হতে পারে রক্তস্বল্পতা বা অ্যানিমিয়া। আর এই রক্তস্বল্পতা কে বলা হয় আয়রন ডেপিসিয়েন্সি এনিমিয়া শুধু তাই নয় ভিটামিন বি ও ফলিক এসিডের অভাবে বা দীর্ঘমেয়াদি বিশেষ কোনো রোগ থাকলে যেমনঃ কিডনি বিকল হওয়া , যক্ষা , ব্লাড ক্যান্সার , থ্যালাসেমিয়া ইত্যাদি ।


রক্ত স্বল্পতা দেখা যায় সাধারণত আয়রন এর ঘাটতি জনিত কারণে এবং এর হার সবচেয়ে বেশি। বিশেষ করে এর প্রাদুর্ভাব তৃতীয় বিশ্বের দেশ গুলিতে। আর পুরুষদের তুলনায় নারীদের মধ্যে রক্তস্বল্পতা সমস্যা বেশি দেখা যায় এবং এর হারও বেশি । বাংলাদেশে নারীরা যখন গর্ভাবস্থায় থাকেন তখন আয়রনের ঘাটতি জনিত কারণে রক্তস্বল্পতার হার দেখা দেয় । এমনকি রক্তস্বল্পতার কারণে গর্ভবতী মায়ের মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে ।

রক্তস্বল্পতা প্রতিরোধ

শরীরে রক্ত কম হলে কি রোগ হয় তা জানা থাকলে রক্তস্বল্পতা প্রতিরোধ করা সহজ হয় । প্রতিরোধ নিরাময়ের চেয়ে সব সময় ভালো ফলাফল নিয়ে আসে । মহিলাদের মধ্যে আয়রনের অভাবজনিত রক্তস্বল্পতা প্রতিরোধ করবার জন্য কিছু কৌশল আছে । সেগুলো জেনে নিজেকে সচেতন রাখা সম্ভব হয় । আয়রনসমৃদ্ধ খাবারের সাথে ভিটামিন সি এর জাতীয় খাবার খেলে পারে আয়রন শোষণ বাড়ানো সম্ভব হয়ে থাকে । যদি আপনার অতিরিক্ত মাসিক জনিত সমস্যা হয়ে থাকে । তাহলে আপনার চিকিৎসকের সাথে পরামর্শ ক্রমে ওষুধ সেবন করে চলা উচিত ।

আপনি যদি একজন সন্তান সম্ভবা হয়ে থাকেন তাহলে আয়রনের চাহিদা মেটাতে আইরন সাপ্লিমেন্ট সহ যথাযথভাবে প্রসব এর পূর্বে যে যত্নগুলো আছে তা ঠিক ভাবে নেবার চেষ্টা রাখুন । অতিরিক্ত ক্যাফেন এবং ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ আপনার শরীরে আয়রন শোষণে বাধা সৃষ্টি করতে পারে । তাই নিজের প্রতি যত্নশীল হয়ে সার্বিক বিষয়ে সচেতন থাকুন । চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়ে তার পরামর্শ অনুযায়ী আয়রন জাতীয় খাবার খেতে অভ্যাস গড়ে তুলুন।

রক্তস্বল্পতা প্রতিকার

রক্তস্বল্পতা বা অ্যানিমিয়া প্রতিকারের মূলমন্ত্র রয়েছে খাবারের মধ্যে । আপনি যদি রক্তস্বল্পতা জনিত কারনে ভুগে থাকেন তাহলে সবচেয়ে বুদ্ধিমান এর মত কাজ হবে প্রতিদিনের খাবারের তালিকার দিকে লক্ষ্য রাখা । তবে সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ হল নিজেকে চেষ্টা করতে হবে অ্যানিমিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার পর প্রতিকারের আগে প্রতিরোধ করা। কারণ একবার কোন রোগে আক্রান্ত হয়ে গেলে তা থেকে নিরাময় পাওয়া অনেকটা কষ্টকর হয়ে দাঁড়ায় ।
শরীরে-রক্ত-কম-হলে-কি-রোগ-হয়

সন্তান সম্ভব বা মায়েদের সঠিক সময়ে এবং নিয়মে মধ্যে খাওয়া-দাওয়া করা বেশ জরুরী । তা না হলে অনাগত সন্তান ও মায়ের উপর এর প্রভাব পড়তে পারে । শরীরে রক্ত কম হলে কি রোগ হয় তা জানা থাকলে পরিবারের সদস্যদের প্রতি আলাদাভাবে যত্ন নেওয়া একজন অভিভাবক হিসেবে অনেক সহজ হয়ে দাঁড়ায় । আর তাই সন্তান সম্ভবা মায়েদের খাবারের পাশাপাশি সাপ্লিমেন্ট হিসেবে আয়রন ট্যাবলেট খাওয়া অত্যন্ত জরুরী এবং এটি চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী হতে হবে। 

শেষ কথাঃ শরীরে রক্ত কম হলে কি রোগ হয়

কচু শাক ডাঁটা শাক পালং শাক সিম ও সিমের বিচি কাঁচা কলা সামুদ্রিক মা কলিজা গরু খাসির মাংস হাঁস মুরগির গিলাতে প্রচুর পরিমাণে আয়রন আছে । তবে একটা টিপস দেই যখন আপনি আয়রন জাতীয় খাবার খাবেন সঙ্গে ভিটামিন সি জাতীয় খাবার পাশাপাশি খেলে কার্যকারিতা দ্রুত হয়ে থাকে । তাই লেবুর রাখার চেষ্টা করবেন খাবারে। তবে খাবারগুলো খাওয়ার পর আপনি যদি চা খান তাহলে আপনার আয়রনের অ্যাডজার্ভেশন ব্যাহত হবে ।

ফলিক এসিড পাবার জন্য সকল ধরনের শাকসবজি আপনি যদি নিয়মিত খান তাহলে ফলিক এসিড পেয়ে যাবেন খুব সহজেই । ভিটামিন বি টুয়েলভ এনিমেল সোর্স থেকে পেয়ে যাবেন । তাই এক কথায় ব্যালেন্স ডায়েটের ভেতরে থাকবেন প্রতিদিনে রুটিনে । তাহলেই আপনি পেয়ে যাবেন আয়রন , ফলিক অ্যাসিড ও ভিটামিন বি১২ । রক্তস্বল্পতা বা অ্যানিমিয়া যা পুষ্টি ঘাটতি থেকে হয়ে থাকে । রক্তস্বল্পতা বলতে প্রথমেই আসে নিউট্রিশিয়ান ডেফিসিয়েন্সি যা খাবারের মধ্যেই সমস্যা ।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

আপনার মূল্যবান মতামত দেন। এখানে প্রতিটি মতামতের রিভিউ প্রদান করা হয়।

comment url