পায়ের নখ মরে যায় কেন - ও করণীয়
পায়ের নখ মরে যায় কেন আমরা সবাই জানি যে সাধারণত ফাঙ্গাল ইনফেকশনজনিত কারণে। ফাঙ্গাল ইনফেকশন যেন একটি এপিডেমিক এর মত বাংলাদেশে ও ট্রপিক্যাল কান্ট্রিতে ছড়িয়ে পড়েছে । কারণ এই এরিয়াতে মানুষ প্রচন্ড ঘামে। আর এই কারণে ফাংগাল ইনফেকশন হয়ে থাকে।
পায়ের নখ মরে যাই যখন, তখন সেই ব্যক্তির এইটা নিয়ে কোন উদগ্রীব তৈরি হয় না । কারণ সেখানে চুলকানো থাকে না , জ্বালা থাকে না , এমনকি ব্যথাও থাকে না । সেজন্য মানুষ কিন্তু খুব সচেতন কম থাকে। সেই জন্য আজ আমরা স্পেশালি এই টপিকটা নিয়ে আলোচনা করতে চাই ।
পেজ সূচিপত্রঃ পায়ের নখ মরে যায় কেন
- পায়ের নখ মরে যায় কেন
- কোথায় ফাঙ্গাল বেশি হয়
- ইমিউনিটি কম হয় কখন
- নখ মরে যাওয়া প্রতিরোধের উপায়
- পায়ের নখে ইনফেকশন দূর করার ঘরোয়া উপায়
- পায়ের নখে ইনফেকশনে চিকিৎসার প্রয়োজন
- পায়ের নখে ফাঙ্গাস আক্রমণের লক্ষণ
- পায়ের নখ মরে গেলে করণীয়
- পায়ের নখ ভালো রাখার উপায়
- শেষ কথাঃ পায়ের নখ মরে যায় কেন
পায়ের নখ মরে যায় কেন
আপনি কিভাবে বুঝবেন আপনার ফাংগাল নেইল ইনফেকশন হয়েছে। প্রথমত দুই থেকে তিনটি
সাইন আছে। প্রথমত যখন আপনার নখের কালার চেঞ্জ হয় । ধরুন নখের কালার টা চেঞ্জ
হয়ে অতিরিক্ত সাদা সাদা হয়ে গেল। বা কখনো হলদেটে ভাব চলে এলো নখের পোরশানে ।
কখনো কখনো এই হলদেটে বা সাদা ভাবটা দীর্ঘদিন যদি থাকে এটা কিন্তু কালো ভাবও নিতে
পারে । রং চেঞ্জ হওয়া এটি একটি প্রাথমিক লক্ষণ। যেটা ইজিলি ভিজিবেল। যা বোঝা
যায় যে নখে ইনফেকশন হচ্ছে কিনা।
নক যদি সবুজ হয় সেটা কিন্তু একটা সিউডোমনা ইনফেকশন এর লক্ষণ। সেটা কিন্তু ফাঙ্গাস নয় ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশন । দ্বিতীয়ত হচ্ছে আপনার পায়ের নখের মাথা মোটা হয়ে যেতে পারে । কিছু কিছু ডেপ্রিজ আপনার নখের তলায় জমা হতে পারে । যার ফলে আপনার নখ টাকে মোটা করে দিতে পারে । তৃতীয়ত হলঃ আপনার নখটি ভঙ্গুর বা ফ্রাজাইল হতে পারে । এই ধরনের লক্ষণ দেখলে আপনি বুঝবেন আপনার নখে ফাংগাল ইনফেকশন হয়েছে ।
কোথায় ফাঙ্গাল বেশি হয়
বিশ্বে প্রায় পাঁচ শতাংশ ব্যক্তি এই ফাংগাল ইনফেকশনে আক্রান্ত হয়ে থাকে ।
আমাদের দেশে এই আক্রান্ত ব্যক্তি ৮% থেকে প্রায় ৯ শতাংশ হয়ে থাকে । যারা ওল্ড
এজ পপুলেশন তাদের ক্ষেত্রে আরো বেশি, সংখ্যাটা প্রায় ৩৫ শতাংশ । ভিজে সেঁতসেঁতে
জায়গায় ফাংগাল বেশি হয়ে থাকে । তাহলে দেখতে হবে নখের ক্ষেত্রে কখন ভিজে বা
স্যাঁতসেতে পাচ্ছে । এক হচ্ছে হাউজ ওয়াইফ এর ক্ষেত্রে যারা দীর্ঘক্ষণ ধরে কাপড়
ধোয়া বা বাসন মাজার কাজ করেন। পানির সংস্পর্শে থাকার ফলে ফাঙ্গাল আক্রমণে নখ মরে
যায়।
আরো পড়ুনঃ মহিলাদের কোমর ব্যথার কারণ ও প্রতিকার
অর্থাৎ যখন তাদের পা দীর্ঘক্ষণ ভিজে থাকছে । এতে করে ফাঙ্গাস গ্রো করার সুযোগ পেয়ে যাচ্ছে । পুরুষদের ক্ষেত্রে যারা খেলোয়াড় বা অফিসে কর্মরত । দীর্ঘক্ষণ ধরে পায়ে মোজা পড়ে থাকতে হয় তাদের ঘাম থেকে হতে পারে । তৃতীয়তঃ হচ্ছে যারা কমার্শিয়াল স্পেস ব্যবহার করেন । যেমন সুইমিং পুল বা গোসলের জায়গা সেখান থেকেও হতে পারে । চতুর্থত হচ্ছে ওল্ড এজ, বয়স্করা নিজেদের নখের যত্ন ঠিকভাবে নিতে পারেন না । সেই কারণে বয়স্কদের মধ্যে এটি বেশি হয়। এতগুলো ফ্যাক্টর কাজ করে ফাংগাল ইমপ্যাক্ট বাড়ানোর জন্য ।
ইমিউনিটি কম হয় কখন
ওল্ড ইজ পপুলেশন এদের মধ্যে দেখা যায় পায়ের নখ মরে যাওয়া । কারণ তারা এই বয়সে
এসে ঠিকভাবে পায়ের যত্ন নিতে পারেনা । শুধু তাই নয় বয়স্কদের ইমিউনিটি দুর্বল
হয়ে থাকে । ইমিউনিটি কম হওয়ার ফলে ফাংগাল আক্রান্ত হয়ে পায়ের নখ মরে যায় । এ
প্রথম কারণ হলো ডায়াবেটিক্স । অ্যাডাল্ট পপুলেশনে কোন বয়স্ক মানুষ যদি তিনি না
হন । তাহলে তিনি ৪০ থেকে ৫০ বছর বয়সে সুগার বেশি থাকলে ফাঙ্গাল ইনফেকশনের চান্স
বেড়ে যায় ।
শুধু তাই নয় কারো যদি পুয়োর হেলথ নিউট্রিশন হয় বা এইচআইভি ভাইরাস থেকে থাকে
তাহলে সেই ক্ষেত্রে পায়ের নখ মরে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে । সেই ক্ষেত্রে
একজন সচেতন ব্যক্তি হিসেবে আপনাকে পায়ের নখ মরে যায় কেন তা জানা অত্যন্ত জরুরি
। ডায়াবেটিস যেহেতু একটি নীরব ঘাতক রোগ , সে ক্ষেত্রে আপনাকে ডায়াবেটিস হলে
অনেক যত্নে থাকতে হবে । সুগারকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে । নতুবা দেখা যাবে ফাঙ্গাল
আক্রান্ত হয়ে পায়ের নখ মরে যেতে ।
নখ মরে যাওয়া প্রতিরোধের উপায়
পায়ের নখ মরে যায় কেন তা জানতে পারলে আমরা প্রতিরোধ করার উপায় জেনে যাব খুব
সহজেই । প্রথমে যে কারণগুলো আলোচনা করলাম সে কারণগুলো এভোয়েড করি তাহলেই আমরা
এটিকে প্রতিরোধ করতে পারব । যেমন প্রথমতঃ কৃষি কাজের ক্ষেত্রে পা দীর্ঘক্ষণ ভেজা
থাকে। সেক্ষেত্রে গামরুট ব্যবহার করতে পারেন । দ্বিতীয়তঃ মহিলাদের কাপড় ধোয়া
বা বাসন মাজার ক্ষেত্রে কিছুটাও উঁচু জায়গায় পা রেখে কাজ করতে পারেন । যাতে
কিনা সরাসরি পানিটা পায়ে না লাগে।
আরো পড়ুনঃ মাথা ঘোরা ও চোখে ঝাপসা দেখার কারণ কি
তৃতীয়তঃ আমরা করতে পারি,যে সমস্ত কাজ করতে গেলে পা ভেজে যাবেই। সেক্ষেত্রে কাজ
করা হয়ে গেলেই পাস শুকনো কাপড় দিয়ে মুছে নিতে হবে । মনে রাখবেন আপনি যত
তাড়াতাড়ি পার শুকনো করতে পারবেন আপনার পায়ের নখে ফাঙ্গাল আক্রমণ করার সুযোগ কম
পাবে । যাদের জুতা ব্যবহারের ফলে পা ঘামে তারা ব্রেথেবেল জুতা ও মোজা ব্যবহার
করতে পারেন । সম্ভব হলে মোজা ছাড়া কিটো জাতীয় জুতা পরতে পারেন । আবার আমরা
অ্যান্টিফাঙ্গাল পাউডার ব্যবহার করতে পারি ।
পায়ের নখে ইনফেকশন দূর করার ঘরোয়া উপায়
গরমের সময় দেখা যায় যে আপনার শরীরের অন্যান্য অংশের মতো পা ঘেমে ভেজা থাকে । এরকম অবস্থা চলতে থাকলে পায়ের নখে সাদা , বাদামি বা হলুদ ভাব দেখা দেয় । তাই যথাযথভাবে আপনি আপনার পায়ের যত্নের প্রয়োজন পড়ে। চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা পায়ের নখের ফাঙ্গাল ইনফেকশন কে "ওনেকো মাইকসিস" বলে। আর তাই চিকিৎসকরা সাধারণত ফাঙ্গাস বিরোধী ওষুধ দিয়ে থাকেন। কিন্তু এর পাশাপাশি খুব খারাপ অবস্থা না হলে, আপনি ঘরোয়া পদ্ধতি ব্যবহার করে এই সমস্যার অনেকটা সমাধান করতে পারেন ।
অ্যাপেল সিডার ভিনিগার এর ভেতর এন্টি ব্যাকটেরিয়াল উপাদান থাকার জন্য আপনি অ্যান্টিসেপটিক মাউথওয়াশের সাথে মিশিয়ে পনেরো মিনিটের জন্য পা ডুবিয়ে রাখতে পারেন। পরবর্তীতে পা তুলে তা তোয়ালে দিয়ে ভালোভাবে শুকিয়ে নিতে হবে। এরপর অপর একটি পাত্রে পাঁচফোঁটা টি ট্রি অয়েল, থাইম ওয়েল ও অলিভ অয়েল মিশিয়ে নখের তেলের মিশ্রণ তৈরি করে তা মেসেজ করতে হবে । এরপর একটা পরিষ্কার ব্রাশের সাহায্যে আপনার নখের আশেপাশের অংশগুলো বেশ সুন্দর করে পরিষ্কার করে নিতে হবে এবং তা কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে শুকিয়ে নিতে হবে ।
বেকিং সোডাতে অ্যালকালাইন থাকার জন্য ফাঙ্গাস বৃদ্ধি করতে বাধা দেয়
তাই ঘরোয়া উপায়ে বেকিং সোডা ও পানি দ্বারা একটা পেস্ট তৈরি করে ২০মিনিট তা আপনি
আপনার পায়ের নখের আক্রান্ত স্থানে লাগিয়ে রাখতে পারেন। এছাড়া হলুদে
অ্যান্টিসেপটিক থাকার জন্য রোগ প্রতিকারে এবং রোগ হওয়া প্রতিরোধে বেশ কার্যকরী ।
তাই কিছু পানির মধ্যে এক চামচ হলুদের গুড়া নিয়ে আক্রান্ত স্থানে তিন থেকে চার
ঘন্টা লাগিয়ে রাখতে পারেন। এরপর ধুয়ে পা শুকনো করতে হবে ।
টি ট্রি ওয়েল নখে ফাঙাল ইনফেকশন হলে আপনি তা ব্যবহার করতে পারেন । যেহেতু এই
তেলের মধ্যে এন্টিফাঙ্গাল ও অ্যান্টিসেপটিক উপাদান থেকে থাকে । অরিগ্যানো ওয়েলের
মধ্যে থাইমাল থাকে বিধায় অ্যান্টিফাঙ্গাল উপাদান থাকে। তুলাতে করে নিয়ে আপনি
আক্রান্ত স্থানে ব্যবহার করে নখে লাগাতে পারেন এই তেল। পায়ের নখ কালচে হলে আপনি
চিনি ও লেবুর রসের স্কার্ব তৈরি করে নিন। গরম পানিতে পা ভিজিয়ে রাখার পরে
পা ধুয়ে নিয়ে ভালোভাবে শুকিয়ে নিতে পারেন এবং ময়েশ্চারাইজার লাগাতে পারেন।
পায়ের নখে ইনফেকশনে চিকিৎসার প্রয়োজন
পায়ের নখ মরে যায় কেন এটা জানতে পারলে আপনি চিকিৎসা নিতে পারবেন খুব তাড়াতাড়ি
। আপনাকে অবশ্যই চিকিৎসাটা নেওয়া উচিত একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছ থেকে । তার
কারণ ফাঙ্গাল ইনফেকশন এখন প্রচন্ড রেজিস্ট্যান্স। আপনার যখন পায়ে ফাঙ্গাল
ইনফেকশনের ফলে নখ মরে যাবে । তখন আপনার চিকিৎসক মুখে খাওয়া ঔষধ এবং মাখার জন্য
যেগুলো দিয়ে থাকবেন তা ধৈর্য ধরে চিকিৎসক ঔষধ বন্ধ না করা পর্যন্ত তা আপনাকে
চালিয়ে যেতে হবে ।
আরো পড়ুনঃ শরীরে লাল লাল রেশ চুলকানি - কার্যকরি ঘরোয়া প্রতিকার
নতুবা পরবর্তীতে তা সোর্স অফ ইনফেকশনের কাজ করে । অর্থাৎ বারবার তা ফিরে আসে
প্রকট আকারে । আবার আমাদের পায়ের নখে ব্লাড সাপ্লাই খুব কম হয় । সেই
ক্ষেত্রে কিন্তু নখের চিকিৎসায় খুব দ্রুত রেসপন্স করে না । যতটা দ্রুত আমাদের
ত্বকের ইনফেকশনে চিকিৎসা কাজ করে । সেক্ষেত্রে নখের ইনফেকশন সারতে সাধারণত ছয়
থেকে নয় মাস পর্যন্ত সময় লেগে যায় । সুতরাং এটি ধৈর্য সাপেক্ষ । খরচা সাপেক্ষ
এবং চিকিৎসাটা সম্পূর্ণভাবে পায়ের নখে আক্রান্ত জায়গাটা সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত
চালিয়ে যেতে চেষ্টা রাখবেন ।
পায়ের নখে ফাঙ্গাস আক্রমণের লক্ষণ
পায়ের নখ মরে যায় কেন এই সম্পর্কে আপনি জানতে পারলে নিজেকে অনেক নিরাপদে রাখতে পারবেন। আপনি জানলে খুশি হবেন যে , আমাদের নখে যে ফাঙ্গাস ইনফেকশন তৈরি হয় তা মেজর কোন স্বাস্থ্য প্রবলেম তৈরি করে না । কিন্তু এটা খুব বিরক্তিকর এর কারণ হয় । এটা থেকে আমাদের নখগুলো দেখতে খারাপ হয়ে যায় । অর্থাৎ নখের সৌন্দর্য নষ্ট হয়ে যায় । আমাদের নখে ফাঙ্গাস আক্রমণ করলে প্রাথমিক পর্যায়ে যে লক্ষণ গুলো দেখা যায় তা নিম্নে আলোচনা করা হলো।
- নখগুলো ভেঙ্গে যায়
- নখের কোনা ভেঙ্গে যেতে পারে
- নখের মাঝখানে ফাটাফাটা হয়ে যেতে পারে এবং তা নখের সৌন্দর্য নষ্ট হয়ে বিকৃত নখ হয়ে যায় ।
- নখ অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পায় ।
- নখের তলা ফুলে ওঠে।
- নখের রং বদলে যেতে পারে। রং হলুদ ধারণ করে । কোন সময় কালচে, বাদামী বা ধূসর। এইসব রং ডিফারেন্ট কালারের বিন্যস্ত হয় ।
এছাড়া একাধিক নখে আক্রান্ত হতে পারে । বেশি আক্রান্ত হয় পায়ের বৃদ্ধ আঙ্গুলে।
পায়ের নখ মরে যায় সাধারণভাবে পা ভেজা এবং অপরিষ্কার থাকলে । তাই সে ক্ষেত্রে
আমরা লক্ষ্য রাখবো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন তার দিকে।
পায়ের নখ মরে গেলে করণীয়
পায়ের নখ মরে যায় কেন ও করনীয় কি তা জানা আমাদের খুব প্রয়োজন। কোনরকম আঘাত
জনিত কারণে কিংবা যে কোন সংক্রমন জনিত রোগের কারণে পায়ের নখ মরে যেতে পারে। যদি
কখনো কোন কারনে আপনার পায়ের নখ মরে যাই তবে চিন্তিত হবার তেমন কারণ নেই। কারণ
এটি কোন বড় রোগের লক্ষণ না । চলুন একটু জেনে নেই পায়ের নখ মরে গেলে করণীয় গুলো
কি কি হতে পারে?
- আপনার পায়ের নখ মরে গেলে আক্রান্ত জায়গাটিকে এবং তার আশেপাশে পরিষ্কার করে রাখার চেষ্টা রাখুন । সব সময় শুকনো তোয়ালে দিয়ে মুছে জায়গাটিকে শুকনো রাখার চেষ্টা রাখুন। প্রয়োজনে প্রতিদিন অ্যান্টিসেপটিক জাতীয় জিনিস দিয়ে পরিষ্কার করতে চেষ্টা করবেন নতুবা সংক্রমণ হতে পারে।
- যদি আপনার পায়ের নখ টি সম্পূর্ণভাবে মরে যায় এবং উঠে যাওয়ার মতো হয়ে যায় তাহলে তা ফেলে দেবার চেষ্টা করবেন কিন্তু জোর করে ফেলার চেষ্টা করবেন না কারণ এতে আঘাত লেগে বেড়ে যেতে পারে।
- আপনার মরা নখটি উঠে যাওয়ার পরে যদি কোন কারনে নখের তলের অংশ খোলা থাকে তাহলে তা সংক্রমণ প্রতিরোধ করার জন্য আপনি চাইলে তা ব্যান্ডেজ করে রাখতে পারেন। প্রয়োজনে মাঝে মাঝে খুলে তা আলো বাতাস লাগাতেও পারেন ।
- পায়ের নখ মরে গিয়ে উঠে যাবার পরে আবার নতুন করে নখ গজাতে প্রায় ছয় থেকে বারো মাস সময় লেগে যেতে পারে। এই সময় কোন ধরনের অস্থিরতা না রেখে আপনি সঠিকভাবে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী যত্ন নিতে থাকুন । যাতে নতুন করে নখ গজাতে পারে ।
- পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণ আপনার পায়ের নতুন নখ গজানোর জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই আপনি যদি পুষ্টিকর খাবার খেয়ে নিজেকে সুস্থ রাখতে পারেন তাহলে ,মরা নখ থেকে নতুন নখ খুব তাড়াতাড়ি গজানোর সম্ভাবনা থাকতে পারে ।
- আপনার পায়ের নখ যখন মরে যেতে থাকবে । তখন এমন কোন জুতা পরবেন না। যাতে আবার আঘাতপ্রাপ্ত হতে থাকে ।
পায়ের নখ ভালো রাখার উপায়
আপনার পায়ের নখ সুস্থ রাখার জন্য এবং শক্ত ও সুন্দর রাখার জন্য খাবারের প্রতি
গুরুত্ব দেওয়া খুবই জরুরী। আর তাই আপনার পায়ের নখ ভালো রাখার জন্য ও সুস্থ
মজবুত রাখার জন্য উপায় সমূহ জানা অবশ্যই প্রয়োজন ।
- নখ ভালো রাখার জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ ভিটামিন ও মিনারেল সহ জিংক ও প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার খাওয়ার অভ্যাস তৈরি করুন।
- হাতে পায়ে নিয়মিত মেসেজ করার অভ্যাস তৈরি করুন ফলে রক্ত চলাচল এর ফলে পায়ের নখ ও হাতের নখ সুস্থ থাকবে ।
- হাত পায়ের নখ ভালো রাখার জন্য ও মজবুত রাখার জন্য আপনি প্রয়োজনে বায়োটিন ও বিভিন্ন ধরনের ভিটামিন গ্রহণ করতে পারেন ।
- নখের ভঙ্গুরতা দূর করবার জন্য আপনি ভাল ধরনের নেলপালিশ ব্যবহার করে দেখতে পারেন।
- তবে সব সময় কৃত্রিম নখ বা কোন ধরনের জেল , নখের উপর ব্যবহার থেকে দূরে থাকবেন । এতে করে নখের ভাঙ্গন বেড়ে যেতে পারে ও নখ শুষ্ক হওয়ার সম্ভাবনা থাকে ।


.webp)
আপনার মূল্যবান মতামত দেন। এখানে প্রতিটি মতামতের রিভিউ প্রদান করা হয়।
comment url