নাক দিয়ে রক্ত পড়ার কারণ ও প্রতিকার

নাক দিয়ে রক্ত পড়ার কারণ ও প্রতিকার। শীতকাল তো এসে গেল । এই শীতকালে নাক দিয়ে রক্ত পড়ার প্রবণতা বেড়ে যেতে পারে । নাক থেকে রক্ত পড়ার নানাবিধ কারণ আছে আজ আমরা জেনে নেবো ।  দেখা যায় শিশুদের ক্ষেত্রে বা বয়স্কদের ক্ষেত্রে তার থেকে রক্ত পড়ার প্রবণতা একটু বেশি।

নাক-দিয়ে-রক্ত-পড়ার-কারণ-ও-প্রতিকার

আমাদের নাকের মধ্যে মাকড়সার জালের মত প্রচুর ধমনী আছে এবং নাকের ভেতর যে চামড়াটা আছে ওটা শিশু কিংবা বয়স্কদের ক্ষেত্রে অনেকটা পাতলা থাকে। শীতকালে আদ্রতা কম থাকে। সেই কারণে ধমনী গুলো ভঙ্গুর হয়ে থাকে । আর তাই নাক দিয়ে রক্ত বেরোনোর প্রবণতা বেড়ে যায় ।

পেজ সূচিপত্রঃ নাক দিয়ে রক্ত পড়ার কারণ ও প্রতিকার

নাক দিয়ে রক্ত পড়ার কারণ ও প্রতিকার

নাক থেকে রক্ত অনেক কারণে পড়তে পারে । যে কোন আঘাত জনিত কারণে রক্ত পড়তে পারে । নক দিয়ে নাক খোঁচানো বা পরিষ্কার করার কারণে রক্ত আসতে পারে । কারো যদি রক্ত জনিত সমস্যা থাকে সে কারণে হতে পারে । আবার কারো যদি ব্লাড প্রেসারের সমস্যা থাকে বা কিডনি বা লিভার জনিত সমস্যা থাকলে নাক দিয়ে রক্ত পড়তে পারে । এছাড়াও বয়স্কদের ক্ষেত্রে ৪০ বছর থেকে ৫০ বছর এর উর্ধ্বে এই ধরনের রোগীদের ক্ষেত্রে নাকের মধ্যে যদি টিউমার থাকে বা ক্যান্সার থাকে তাহলে নাক দিয়ে রক্ত পড়তে পারে ।

আবার ১০ বছর থেকে ২০ বছরের ছেলেদের নাকের ভেতর এক রক্তনালী টিউমার হলে নাক দিয়ে রক্ত পড়ে । এই সময় যখন রক্ত পড়ে তখন অনেক রক্ত পড়ে যায়। তবে বিচলিত হওয়ার কোন দরকার নেই। কারণ বিচলিত হলে মানসিক চাপের ক্ষেত্রে রক্ত পড়া আরো বেড়ে যেতে পারে । ছোট বাচ্চাদের ক্ষেত্রে ঠান্ডা লাগলে সর্দি কাশি শুরু হয় । নাক থেকে ডিসচার্জ আসা শুরু করে । যেহেতু ইনফেকশন হয়ে থাকে সেই সময় সেই কারণেও রক্ত  আসতে পারে । এইগুলি কমনলি রক্ত পড়ার কারণ ।

নাক দিয়ে রক্ত পড়ার প্রতিকার

আপনার বাসায় যদি বরফ থাকে তাহলে যখন নাক দিয়ে রক্ত পড়বে তখন নাখের গোড়ায় রোগীকে বরফ দিতে হবে। যখন রক্তটা পড়া শুরু করবে তখন বেসিনের কাছে গিয়ে নাকে নরম অংশটা চাপ দিয়ে ধরে ৮ থেকে ১০ মিনিট রাখতে হবে । এই সময় নাক বন্ধ থাকার কারণে মুখ দিয়ে ব্লাড আসতে পারে , এতে ভয় পাবেন না । কারণ দুশ্চিন্তা আপনার রক্তের ফ্লোটাকে আরো বাড়িয়ে দেবে । শতকরা এই পদ্ধতিতে ৯০ থেকে ৯৫ভাগ ক্ষেত্রে এই প্রসেসেই নাক দিয়ে রক্ত পড়া বন্ধ হয়ে যায় ।

আরো পড়ুনঃ পায়ের নখ মরে যায় কেন - ও করণীয় 

তবে সব সময় খেয়াল রাখতে হবে যেন রোগী কখনোই নাক দিয়ে রক্ত পড়তে শুরু করলে মাথাটাকে সোজা করে না রাখে । অর্থাৎ বিছানায় চিত হয়ে না শোয়া বা রক্ত পড়তে বন্ধ করার জন্য মাথাটাকে কাত করে পেছনের দিকে হেলানো এই কাজগুলো থেকে বিরত থাকতে হবে । সব সময় নাক দিয়ে রক্ত বের করার জন্য সামনের দিকে ঝুলে থাকতে হবে । তবে সাবধান থাকতে হবে সেই সময় নাক ঝাড়া যাবে না ।আপনার দায়িত্ব হচ্ছে বাসায় রক্তটাকে বন্ধ করার চেষ্টা করা । এরপর আপনি চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন ।

বয়স্কদের নাক দিয়ে রক্ত পড়া ও প্রতিকার

নাক দিয়ে রক্ত পড়ার কারণ ও প্রতিকার একজন সচেতন ব্যক্তি হিসেবে আপনার জানা অত্যন্ত প্রয়োজন । ছোট বাচ্চার নাক থেকে রক্ত পড়া খুবই সাধারণ। তবে এটি যদি কোন বৃদ্ধ বয়সে হয়ে থাকে তাহলে তা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে । বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে আমাদের ত্বক প্রতি সুক্ষ ও পাতলা হতে থাকে । ফলে তার নিরাময় প্রক্রিয়া অনেকটা হারিয়ে ফেলে । বয়স হয়ে গেলে অনেকটা অরক্ষিত বা অযত্ন হওয়ার জন্য নাক দিয়ে রক্ত পড়ে। 

সেই সময় নাকের শিরা ফেটে যেতে পারে ফলে রক্তপাত হতে পারে এমনকি নাক  জোরে শ্বাস নিলে বা অনেক জোরে প্রশ্বাস ফেললে নাক দিয়ে রক্ত পড়তে পারে । মারাত্মকভাবে বৃদ্ধ বয়সে নাক দিয়ে রক্ত পড়া হতে পারে তা মাথায় আঘাত , হৃদয় ব্যথা বা বিভিন্ন রকমের রোগ থেকে । নাক থেকে রক্ত পড়ার সাথে সাথে যদি আপনারা দেখতে পান বয়স্ক ব্যক্তিটির উপসর্গগুলি যেমনঃ তার শ্বাসকষ্ট হচ্ছে , বুক ধরফর করছে , অত্যাধিক ঘেমে যাচ্ছে বা বুকে ব্যথা ।

মাথা ঘোরা তাহলে নিশ্চয়ই খুব তাড়াতাড়ি একজন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া এবং তার কাছে নিয়ে যাওয়া অবশ্যই উচিত। তবে প্রাথমিকভাবে বয়স্ক ব্যক্তিকে অবশ্যই হিউমিডিফায়ার ব্যবহার করতে হবে। ধূমপানের অভ্যাস থাকলে তা ত্যাগ করা উচিত এবং প্রচুর পানি পান করার অভ্যাস করতে হবে । হাতের নখ গুলো ছোট রাখার ব্যবস্থা রাখতে হবে । কোন ধরনের এলার্জি থাকলে তা বাড়তে না দেওয়ার চেষ্টা রাখতে হবে । সব সময় নাকের ভেতরে ভেসলিন জাতীয় জিনিস দিয়ে তালুটাকে নরম রাখার ব্যবস্থা রাখতে হবে ।

নাক দিয়ে রক্ত পড়লে ঘরোয়া চিকিৎসা

হঠাৎ করে নাক থেকে রক্ত পড়লে রোগী যেমন ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে যায় তেমন পরিবারের সবাই আতঙ্কিত হয়ে যায় । তারা উদ্বিগ্ন হয়ে যায় যে হসপিটালে নেবে না বাসায় থাকবে । ইনভেস্টিগেশন বা পরীক্ষা-নিরীক্ষার আগে ভাববো , এই বাসায় বা ঘরে কি করে ম্যানেজমেন্ট করবো। আজ এই পরিস্থিতি কিভাবে মোকাবেলা করা যায় তা নিয়েই কথা বলবো। যদি কারো নাক দিয়ে হঠাৎ করে রক্ত পড়ে তাহলে তাকে সান্তনা দিয়ে একটা চেয়ারে বসিয়ে দেন এবং তার নাকের সামনের দিকটা চেপে ধরে মুখ দিয়ে শ্বাস নিতে রোগীকে বলুন ।

আরো পড়ুনঃ মহিলাদের কোমর ব্যথার কারণ ও প্রতিকার

নাকটার সামনের অংশে ১০ থেকে ১৫ মিনিট ধরে রেখে মুখ দিয়ে শ্বাস নিতে হবে । এরপর আইসক্রিম জাতীয় খাবার বা আইসকিউব রোগীকে খেতে দিন । এতে করে নাক দিয়ে রক্ত পড়া বন্ধ হতে পারে । আবার আইস কিউব রুমাল দিয়ে ধরে কপাল ও নাকের সংযোগস্থলে চেপে ধরে কিছুক্ষণ থাকলে সংকুচিত হয়ে নাকের রক্ত পড়া বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এভাবে করলে নাকের রক্ত পড়া বন্ধ হয় খুব তাড়াতাড়ি । ফলে দেখা যায় যে রোগী অনেকটা অনুভব করে।

যে সব কারণে নাক দিয়ে রক্ত পড়তে পারে

নাক দিয়ে রক্ত পড়ার কারণ ও প্রতিকার জানা প্রতিটি সচেতন ব্যক্তির উচিত । আর তাই যেসব কারণে নাক দিয়ে রক্ত পড়তে পারে তা জেনে নেওয়া অবশ্যই প্রয়োজন । আপনার যদি এলার্জিক রাইনাইটিস হয়ে থাকে , তাহলে জ্বালাপোড়ার কারণেও নাক দিয়ে রক্তপাত হওয়া এটি একটি সাধারণ কারণ । সাইনাসের সংক্রমণ থেকেও নাক দিয়ে রক্ত পড়তে পারে। অনুনাসিক পলিপ  এই সমস্যাটা থেকে থাকলে নাক দিয়ে রক্ত পড়ে ।

নাক-দিয়ে-রক্ত-পড়ার-কারণ-ও-প্রতিকার

শুধু তাই নয় যেসব কারণে নাক দিয়ে রক্ত পড়তে পারে তা নিম্নে তুলে ধরা হলো ।

  • রক্তপাত জনিত রোগ ।
  • উপরের শ্বাস যন্ত্রের সংক্রমণ ।
  • যকৃতের রোগ ।
  • ভিটামিন কে এর অভাব ।
  • শ্বেত কণিকার আধিক্য ঘটিত রক্তাল্পতা ।
  • ইমিউন ্থ্রোম্বো সাইটোপেনিয়া ।
  • বংশগত হেমোরেজিক টেলাঞ্জিয়েক্টাসিয়া ।
  • অথেরোস্ক্লেরোসিস ।

নাক দিয়ে রক্তপাত প্রতিরোধে জীবনধারা পরিবর্তন

নাক দিয়ে রক্তপাত প্রতিরোধ করার জন্য যে টিপসগুলো আছে তা মেনে চলা এবং মেনে চললে স্বাভাবিক জীবনযাপনে অনেকটা ভালো থাকা সম্ভব হয় । আর তাই নিম্নলিখিত টিপসগুলো মেনে চলার জন্য বিবেচনা করতে পারেন ।

  • নাকের ভেতর আদ্রতা বজায় রাখার চেষ্টা রাখুন । পেট্রোলিয়াম জেলি পাতলা করে লাগাতে পারেন।
  • ধোঁয়া বা শক্তিশালী রাসায়নিক সংস্পর্শ থেকে সব সময় দূরে থাকার চেষ্টা করুন ।
  • ঝুঁকিপূর্ণ খেলাধুলা বা মুখে নাখে আঘাত লাগে এমন কার্যকলাপ থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করুন । নতুবা ঝুঁকিপূর্ণ কাজের সময় প্রতিরক্ষামূলক সরঞ্জাম ব্যবহার করুন ।
  • আপনার যদি উচ্চ রক্তচাপ থেকে থাকে তাহলে তা নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা রাখুন ।
  •  অ্যালকোহলে আসক্ত থাকলে তা বর্জন করার চেষ্টা করুন ।
  • এলার্জি হয় এমন কিছু জিনিস থেকে সব সময় নিজেকে দূরে রাখুন ।
  • শুষ্ক পরিবেশে মাস ব্যবহার করুন এতে করে ধুলোবালিযুক্ত বা ঠান্ডা পরিবেশের সংস্পর্শ এলে আপনার নাক রক্ষা করতে পারবেন।

কখন হাসপাতালে ভর্তি প্রয়োজন

নাক দিয়ে রক্ত পড়ার কারণ ও প্রতিকার জেনে নিতে পারলে আপনার জন্য সহজ হবে কখন হাসপাতালে রোগীকে ভর্তির প্রয়োজন। বারবার চাপ দেওয়া বা নাক বন্ধ করা এরপরও যখন রক্ত পড়া বন্ধ না হয় সেই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি প্রয়োজন হতে পারে । আবার রক্তক্ষরণের ফলে দুর্বলতা , মাথা ঘোরা বা নিম্ন রক্তচাপ দেখা দিলে বাড়িতে বসে না থেকে হাসপাতালে ভর্তি প্রয়োজন হয়। এক কথায় বলতে হয় কিছু পরিস্থিতিতে হাসপাতালে ভর্তি প্রয়োজন দেখা দিতে পারে।

আরো পড়ুনঃ  মাথা ঘোরা ও চোখে ঝাপসা দেখার কারণ কি

চিকিৎসক সাধারণত নাকের এন্ডোসকপি পরীক্ষা করে কি কারনে রক্তপাত হচ্ছে ? কোন জায়গা হতে রক্তপাত হচ্ছে ? এটা বুঝে নিলে রোগীর ম্যানেজমেন্ট ভালো হয় । চিকিৎসা করতে চিকিৎসকের অনেক সহজ হয়ে থাকে । যে সময় বাড়িতে বা বহির্বিভাগে নাক দিয়ে রক্তপাত বন্ধ করা সম্ভব হয় না তখন ভর্তির পরামর্শ দিয়ে থাকেন । যেমনঃ

  • নাকের পশ্চাৎ ভাগে রক্তপাত সন্দেহ করা হলে ।
  • অল্প সময়ের মধ্যে বারবার নাক দিয়ে রক্ত পড়লে
  • রোগী রক্তপাত জনিত সমস্যা থাকলে অথবা তিনি অ্যান্টিকোয়া গুলান্ড ওষুধ সেবন করলে ।
  • নাক দিয়ে অনিয়ন্ত্রিত রক্তপাত উচ্চ রক্তচাপের সাথে সম্পর্কিত হলে
  • জটিল পরিস্থিতি দেখা দিলে ।

নাক দিয়ে রক্তপাতের বিষয়ে কখন চিন্তিত হওয়া উচিত

নাক দিয়ে রক্ত পড়ার কারণ ও প্রতিকার জেনে নিতে পারলে আপনার নাক দিয়ে রক্তপাতের বিষয়ে চিন্তিত হওয়ার পূর্বে আপনি সাবধানতা অবলম্বন করতে পারবেন খুব সহজে । দেখা গিয়েছে বেশিরভাগ নাক দিয়ে রক্তপাতের সমস্যা যদি সামান্য হয় তা নিজে থেকে বন্ধ হয়ে যায় । তবে কিছু কিছু সময় আসে যখন ঘন ঘন বা অনেক বেশি নাক দিয়ে রক্তপাত হতে থাকে, ও জটিল সমস্যার ইঙ্গিত দেখা দেয়। আর তাই আপনার বাসায় এই ধরনের রোগী থাকলে আপনাকে খুব সতর্কতা মূলক লক্ষ্য রাখা উচিত কিছু কিছু লক্ষণের প্রতি ।

রোগীর সপ্তাহে বেশ কয়েকবার নাক দিয়ে রক্তপাত হয় তাহলে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত । ক্রমাগত রক্তপাত জনিত সমস্যা বা দীর্ঘস্থায়ী নাক জ্বালার মত কোন কিছু ঘটে থাকলে তা অন্তর্নিহিত কোন লক্ষণ দেখা দিতে পারে । রোগী ২০ মিনিটের বেশি রক্তপাত হলে চিকিৎসকের প্রয়োজন দেখা দিতে পারে । যখন নাক দিয়ে রক্তপাত হয় ক্ষত বা ক্লান্তি বা ফ্যাকাসে ত্বক এ ধরনের লক্ষণগুলি দেখা দিলে এবং তার সাথে রক্ত জমাট বাঁধার মত সমস্যা বা লিউকেমিয়ার মত আরো গুরুতর অবস্থায় ইঙ্গিত হতে পারে ।

ঘন ঘন নাক দিয়ে রক্ত পড়া কি লক্ষণ হতে পারে

 নাক দিয়ে রক্ত পড়ার কারণ ও প্রতিকার আপনার অবশ্যই জেনে নেওয়া উচিত । আপনার যদি ঘনঘন নাক দিয়ে রক্ত পড়ে তাহলে এই তীব্রতা কমানোর জন্য আপনাকে পদক্ষেপ গুলো নিয়ে থাকতে হবে আপনার বাড়িতে বিশেষ করে শুষ্ক মৌসুমে সময় নাকের শুষ্কতা রোধ করার জন্য একটি হিউমিডিফায়ার ব্যবহার করতে পারেন । ঘনঘন নাক দিয়ে রক্ত পড়া বিভিন্ন লক্ষণের সাথে যুক্ত হতে পারে ।

নাক-দিয়ে-রক্ত-পড়ার-কারণ-ও-প্রতিকার

যার মধ্যে হতে পারেঃ

  • নাকের পথে দীর্ঘমেয়াদী প্রদাহ অর্থাৎ দীর্ঘস্থায়ী সাইনোসাইটিস হয়ে থাকতে পারে ।
  • অস্বাভাবিক নাখের গঠন হলে নাক দিয়ে রক্ত পড়ার প্রবণতা বেড়ে যেতে পারে। যাকে বলা হয় বিচ্যুত অনুনাসিক সেপটাম ।
  • হিমোফিলিয়া বা ভন উইলের ব্র্যান্ড রোগের মত অবস্থা হলে অর্থাৎ রক্তপাত জনিত অসুখ হলে রক্ত জমাট বাধার উপর বেশ প্রভাব পড়তে পারে এবং বারবার নাক দিয়ে রক্ত পড়তে পারে।
  • নাকের ভিতর টিউমার বা ক্যান্সার যুক্ত কোন ঘটনা ঘটে থাকলে রক্তপাত হতে পারে ।
  • হাইপারটেনশন অর্থাৎ উচ্চ রক্তচাপ রক্তনালি গুলোকে দুর্বল করে দিতে পারে যার ফলে রক্তনালী ফেটে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে ।

উপসংহারঃ নাক দিয়ে রক্ত পড়ার কারণ ও প্রতিকার

আপনার বা আপনার পরিবারের কারো যদি রক্তপাত নাক দিয়ে হয়ে থাকে তাহলে প্রথমে তা বন্ধ করার জন্য ব্যবস্থাপনা নিতে হবে এবং প্রতিরোধ করার মত পদ্ধতিগুলো জেনে নেওয়া আপনার জন্য অবশ্যই প্রয়োজন । নাক দিয়ে রক্ত পড়ার মতো সমস্যা যদি থেকে থাকে তাহলে আপনাকে প্রচুর পরিমাণ পানি পান করে নিজেকে হাইড্রেট রাখতে হবে এবং সুস্থ থাকতে হবে। নাকের ভেতরে আঙ্গুল দিয়ে খোঁচানোর অভ্যাস থাকলে তা এড়িয়ে চলার চেষ্টা রাখতে হবে। নয়তোবা রক্তপাত এর কারণ হতে পারে ।

আপনার যখন নাক দিয়ে রক্ত পড়তে থাকবে তখন কখনোই আপনি পেছনের দিকে শোয়ার ভঙ্গিমায় যাবেন না। নাকের রক্তনালী সংকুচিত করার জন্য আপনাকে নাকের সংযোগস্থলে ঠান্ডা বরফ জাতীয় কোন জিনিস চেপে ধরতে হবে ।বা বরফ থাকলে কাপড় দিয়ে ধরে সেখানে চেপে ধরলে রক্ত পড়া বন্ধ হয়ে যেতে পারে এবং এটি এক ধরনের প্রাথমিক চিকিৎসা হয়ে থাকে । এছাড়া গুরুতর অবস্থা দেখা দিলে কোন ধরনের উদ্বেগ না ঘটিয়ে যে কোন ইএনটি বিশেষজ্ঞ এর সঙ্গে পরামর্শ নিয়ে চিকিৎসা নিতে হবে ।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

আপনার মূল্যবান মতামত দেন। এখানে প্রতিটি মতামতের রিভিউ প্রদান করা হয়।

comment url