চুলের যত্নে কালোকেশী ব্যবহার - টিপস ও ট্রিকস সহ
চুলের যত্নে কালোকেশী ব্যবহার। এমন একটি উপাদান বা এমন একটি গাছের কথা বলবো যেটা আমাদের চুলকে ভালো রাখতে ভীষণ সাহায্য করে। আর এটা কিন্তু আদি অকৃত্রিম অনেক কাল থেকে চলে আসছে। কালোকেশী পাতার রস অথবা তেল সপ্তাহে তিন দিন সরাসরি মাথার স্কেল্পে লাগান।
আজকের আর্টিকেলটিতে আমরা জানব কালকেশী গাছের ব্যবহার , উপকারিতা এবং এর পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে। কালোকেশী পাতা দিয়ে তৈরি তেল চুলে ব্যবহার করলে চুল পড়া রোধ করে। নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে এবং ড্যানড্রাফ এর সমস্যা দূর করে। অপরিণত চুলে পুষ্টি যোগায়।
পেজ সূচিপত্রঃ চুলের যত্নে কালোকেশী ব্যবহার
- চুলের যত্নে কালোকেশী ব্যবহার
- পাকা চুল কালো করতে কালোকেশী
- প্রাকৃতিক উপায়ে ঘরে তৈরি কালোকেশী টনিক
- কালোকেশী গাছের ঔষধি গুণ
- চুলের যত্নে কালোকেশী তেলের উপকারিতা
- কালোকেশী দিয়ে হেয়ার প্যাক তৈরি প্রক্রিয়া
- কালোকেশী পাতার রসের গুণাবলী
- চুলের মসৃণতার জন্য কালোকেশী
- কালোকেশী ব্যবহারে সাবধানতা
- শেষ কথাঃ চুলের যত্নে কালোকেশী ব্যবহার
চুলের যত্নে কালোকেশী ব্যবহার
চুল পড়া রোধ থেকে শুরু করে চুলের যাবতীয় সমস্যা প্রতিরোধ করে । তাই চুলের
বিভিন্ন সমস্যা দূর করতে এবং ঘন কালো মসলিন চুল পেতে অবশ্যই ব্যবহার করুন
কালোকেশী । কালোকেশী পাতার রস ১০ মিলি পরিমাণে সপ্তাহে তিন থেকে চার দিন সেবন
করলে রক্ত শুদ্ধি করে এবং এর পাতার প্রলেপ লাগালে বিভিন্ন চর্ম রোগের হাত থেকে
মুক্তি পাওয়া যায় । এটি একটি ঔষধি গাছ । আমাদের দেশে পুকুরপাড় , রাস্তাঘাট ,
বন জঙ্গলে এই গাছটি হয়ে থাকে ।
কালোকেশী এর পাতা , ফুল , বীজ বেটে মাথায় দিলে মাথা ঠান্ডা থাকে । নারকেল তেল বা
অন্য যেকোনো আড়াইশো মিলি তেলের সাথে এক চা চামচ মেথি , একটা আমলকি , একটা জবা
ফুল বা কারিপাতা একসাথে করে জ্বাল দিয়ে তেলটা সংরক্ষণ করে রেখে নিয়মিত মাথায়
দিলে মাথা যেমন ঠান্ডা থাকে। তেমনি চুল পড়া বন্ধ হয় , চুল লম্বা এবং কালো হয় ।
শুধু তাই নয় যাদের মাথায় উকুন এবং খুশকি রয়েছে । তারা এই কালোকেশীর রস মাথায়
দিয়ে এক ঘন্টা পর শ্যাম্পু করে ফেললে , উকুন এবং খুশকি দুটোই দূর হয়ে যাবে
।
পাকা চুল কালো করতে কালোকেশী
চুলের সমস্যায় আমরা ছোট বড় সবাই সম্মুখীন হয়। আমরা বাজার থেকে বিভিন্ন ধরনের কেমিক্যাল যুক্ত ডাই কিনে কলম করার জন্য ব্যবহার করে থাকি । এগুলো কিন্তু চুলের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকারক। আজকে এমন একটা প্রাকৃতিক উপাদানের সাথে পরিচয় করাবো, আপনি যদি নিয়মিত সপ্তাহে দুই দিন ব্যবহার করেন তাহলে চুলের যে কোন সমস্যা থেকে মুক্তি পাবেন। সেই প্রাকৃতিক উপাদানটি হলো কালোকেশী , ভৃঙ্গরাজ , কেশরাজ বিভিন্ন নামে ডাকে। এই গাছের ফুল বীজ পাতা কোন কিছুই ফেলার নয়।
আরো পড়ুনঃ কাঁচা হলুদ দিয়ে কিভাবে ফর্সা হওয়া যায় - গোপনীয়তা জানুন
চুলের যত্নে কালোকেশী ব্যবহার জানা থাকলে আপনার জন্য চুলের সমস্যা দূর করা সহজ হবে ।চুলের যে কোন সমস্যা অকালে চুল পড়ে যাওয়া , পেকে যাওয়া সব ধরনের সমস্যার দূর হয় এই কালোকেশীতে। যদি আপনার চুল পাকতে শুরু করে এই পর্যায়ে নিয়মিত ভাবে সঠিক উপায়ে ব্যবহার করে থাকে তাহলে চুল পাকা বন্ধ হয়ে যেতে পারে । দুদিন ব্যবহার করলে আপনি আশ্চর্যজনকভাবে রেজাল্ট পেয়ে যাবেন। চুল কালো করতে অনেক বেশি কার্যকরী । নারকেল তেলের মধ্যে দিয়ে ফুটিয়ে নিয়ে থেকে সংরক্ষণ করে মাথার স্কেলপে লাগালে চুলের সমস্যাগুলো থাকে তাও আপনার দূর হয়ে যাবে।
প্রাকৃতিক উপায়ে ঘরে তৈরি কালোকেশী টনিক
এই তেল তৈরি হয় কালোকেশী পাতা দিয়ে। বাড়ির আশেপাশে পেয়ে যাবেন কালোকেশী। আয়ুর্বেদিক শাস্ত্রে ভৃঙ্গরাজকে বলা হয় কালোকেশী। তেল বানানোর আগে খুব ভালো করে ধুয়ে নিয়ে শুকিয়ে নিতে হবে । পাতাটি বাটার সময় খেয়াল রাখতে হবে যেন কোন ভাবে পানি না থাকে । তাই ব্লেন্ড করার সময় পাতার সঙ্গে তিন চামচ কোকোনাট অয়েল দিয়ে ব্লেন্ড করে নিন। কালোকেশী পাতায় আছে এন্টিফাঙ্গাল ও এন্টি ইনফ্লামেটরি উপাদান ।
যেটা স্কেল্পের মধ্যে স্কিন ইরিটেশন দূর করে এবং খুশকির সমস্যা সমাধানে সহায়তা
করে থাকে । চুলের বৃদ্ধির জন্য কালোকেশী তেল ব্যবহার করা সব থেকে ভালো। কার্যকর
ভাবে মাথার ত্বক এবং চুলে ফলিকলে রক্ত সঞ্চালন বাড়ায় । ফলে নতুন চুল গজাতেও
সাহায্য করে ও চুল পড়া বন্ধ করে । তেল বানাতে কোকোনাট অয়েল এর সাথে কালোকেশী
বাটা টা দিয়ে হালকা আছে ভালোভাবে ফুটিয়ে নিয়ে ছেকে নিলে তৈরি হয়ে যাবে
সবুজ রঙের প্রকৃতির নির্যাস হতে তৈরি তেল ।
কালোকেশী গাছের ঔষধি গুণ
একটি ভেষজ উদ্ভিদ যার নাম কালোকেশী । এটি আমাদের দেশে শাক হিসেবে বেশি পরিচিত । এটি দেখতে কালো না হলেও চুলের জন্য বেশ উপকারী। এইজন্য এই সাতটির নাম কালোকেশী । এই উদ্ভিদটিকে শাক হিসেবে গ্রহণ করলেও এর ভেষজ গুণ অকল্পনীয় । আজকে আমরা এর উপকারি দিকগুলো সম্পর্কে জানব । সৃষ্টিকর্তার প্রাকৃতিক নিয়ামত অনেক আছে।তার মধ্যে গাছ অন্যতম । যারা চুল ভালো রাখতে চান তাদের জন্য এই কেশরাজ বা কালোকেশী ব্যবহার করতে পারেন । এটি চুলের গোড়া মজবুত করে , চুল পড়া বন্ধ করে এবং চুল গজাতে সাহায্য করে। রক্ত পরিষ্কার করে
আরো পড়ুনঃ পুরুষদের জন্য অ্যালোভেরার উপকারিতা - ও কার্যকারীতা জানুন
এতে অন্তত মাসে দুই থেকে তিনবার পাতার রস এক কাপ পরিমাণ খেলে রক্তের ক্ষতিকর উপাদান গুলো ধ্বংস হয়ে যায় । এক গবেষণায় দেখা গেছে কমিয়ে দিতে সাহায্য করে । ফলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকে । কালোকেশী পাতার রস লিভার ভালো রাখতে সাহায্য করে । কালোকেশী শরীরের রোগ প্রতিরোধ বাড়িয়ে দেয় । নিয়মিত এই শাক রান্না করে খেলে শরীরে পুষ্টির চাহিদা পূরণ হবে । দেহের কোন স্থানে কেটে গেলে বা আঘাত পেলে সেখানে এই পাতা বেটে লাগালে রক্ত পড়া বন্ধ হয়ে যায় এবং ক্ষতিস্থান সেরে যায় । আবার এক গবেষণায় দেখা গেছে পাতার রস মশা নিধনে কাজ করে ।
চুলের যত্নে কালোকেশী তেলের উপকারিতা
চুলের যত্নে কালোকেশী ব্যবহার করলে চুল হবে কালো ও ঝলমলে। আর তাই চুলের যত্নে কালোকেশি তেলের উপকারিতা বলে শেষ করা যাবে না। ভালো রাখতে চাইলে আপনাকে কালো কেশীর তেল ব্যবহার নিয়মিতভাবে করতে পারেন । এতে করে অকালে চুল পাকা , চুল ঝরা ও চুল প্রাণহীন হওয়া থেকে নিজেকে রাখতে পারবেন এক অনন্যা । তাই দেরি না করে এই কালোকেশী তেল ব্যবহার করতে পারেন। মাথার স্কেলপে ভালো করে মেসেজ করে লাগিয়ে নিতে পারেন।
চুলের গোড়ায় এই ভেষজ তেলটি নিয়মিত ভাবে লাগালে চুল বৃদ্ধিতে বেশ ভালো কাজ করে । এইটা একটি নিয়ম করে মাখলে চোখে পড়ার মতো চুল বৃদ্ধি দেখা দেয়। মাথা ঠান্ডা রাখে। যাদের মাথা জ্বালাপোড়া করে তাদের জন্য হতে পারে কালোকেশী তেলটি অসাধারণ । ভৃঙ্গরাজ তেল বা কালোকেশী তেল যাদের অসময়ে চুল পাকে তারা এটি ব্যবহার করতে পারেন অনায়াসে। কারণ এর উপকার অনেক বেশি। এতে করে আপনি খুব তাড়াতাড়ি চুল পাকা রোধ করতে পারবেন ।
কালোকেশী দিয়ে হেয়ার প্যাক তৈরি প্রক্রিয়া
চুলের যত্নে কালোকেশী ব্যবহার জানতে পারলে চুল নিয়ে আপনার সমস্যা 'র সমাধান অনেক
সহজ হয়ে যাবে । সপ্তাহে দুই একবার করে হেয়ার প্যাক কালোকেশী দিয়ে ব্যবহার করার
ফলে আপনার চুলের নানা ধরনের সমস্যা খুব তাড়াতাড়ি দূর হবে বলে আশা রাখি । নিম
পাতা , কালিজিরা , এক মুঠো কারি পাতা , এক চামচ মেথি ও কিছু মেহেদি পাতা সঙ্গে
কালোকেশী ভালোভাবে বেটে নিয়ে তাতে সামান্য কিছু নারিকেল তেল মিশিয়ে
চুলের স্কেলপে ঘষে ঘষে দিয়ে সারা চুলে সুন্দরভাবে মেখে নিতে হবে । ঘন্টা
দুয়েক রাখার পরে তা শ্যাম্পু করে নিলে আপনার চুল হবে অনেক ঝলমলে ও কালো ।
জবা ফুল ও জবা পাতা , মেথি , আমলকি এবং কালোকেশী একসঙ্গে বেটে নিয়ে তা নারিকেল
তেলের সাথে ফুটিয়ে নিয়ে ঠান্ডা হলে ছেঁকে নিন । এরপর তা সপ্তাহে দুইবার থেকে
তিন বার মাথার স্কেলপে ঘষে ঘষে ভালোভাবে মেসেজ করে রেখে ঘন্টা দুয়েক পরে
শ্যাম্পু করে ধুয়ে ফেলুন। এতে করে আপনার চুল হবে শক্ত মজবুত ও ঝলমলের কালো । তবে
সব সময় খেয়াল রাখতে হবে নিয়মিত করলে এর ফলাফল ভালো পাওয়া যায় । ঠান্ডা লাগার
অভ্যাস থাকলে আপনাকে সাবধানতা অবলম্বন করে কালোকেশী ব্যবহার করতে হবে। কারণ এটি
প্রচণ্ড ঠান্ডা , তাই হালকা গরম করে নিয়ে ব্যবহার করলে ঠান্ডা কিছুটা কম
লাগবে।
কালোকেশী পাতার রসের গুণাবলী
চুলের যত্নে কালোকেশী ব্যবহার করতে পারলে এবং কালোকেশী পাতার রসের গুণাবলী আপনি জেনে চুলের পরিচর্যা করুন খুব সহজেই । কালোকেশী এমন একটি উদ্ভিদ যার পাতা কাণ্ড ফুল ফল সব কিছুই ব্যবহারযোগ্য । এই উদ্ভিদ দিয়ে আপনি চুলের যত্ন অর্থাৎ তার পাতাগুলো নানা উপায়ে কাজে লাগাতে পারেন অনায়াসে । হেয়ার প্যাক থেকে শুরু করে তেল চুলের জন্য এক অসাধারণ উপাদান। যা ব্যবহারে দুই মাসের মধ্যে ভালো একটি ফলাফল পাবেন।
আরো পড়ুনঃ ফর্সা হওয়ার সবচেয়ে ভালো সাবান - ট্রিকস ও টিপস সহ
কালোকেশী পাতায় প্রচুর পরিমাণ মিনারেল ও ভিটামিন থাকায় চুল পড়া কমাতে অনেক
বেশি সহায়তা করে থাকে । এটি মাথার স্কাল্পে মেসেজ করলে চুল পড়া রোধ হয় খুব
সহজে। শুধু তাই নয় খুশকি ও যেহেতু দূর হয়ে থাকে সেই ক্ষেত্রে চুলে স্বাস্থ্য
ধরে রাখার জন্য কালোকেশী পাতার ভূমিকা অনেক । হেয়ার প্যাক ছাড়াও আপনি নিয়মিত
যদি শুধুমাত্র কালোকেশী পাতা বেটে মাথার স্কেলপে লাগাতে পারেন তাহলে তা চুলের
জন্য অনেক উপকার ও কার্যকর হয়ে থাকে ।
চুলের মসৃণতার জন্য কালোকেশী
চুলের যত্নে কালোকেশী ব্যবহার জেনে নিন। এতে করে আপনি ফিরে পাবেন আপনার চুলের মসৃণতা । কালোকেশী চুলের যত্নে বেশ কার্যকরী এক উপাদান । আর এই কার্যকরিতার জন্য চুলকে অনেক মুসলিম করতে বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে । চুল নিষ্প্রাণ দেখা দেয় যখন তখন আপনি চুলের আদ্রতা এবং সতেজতা ধরে রাখার জন্য সপ্তাহে অন্তত দুটো দিন করে নিয়ম মেনে কালোকেশী ব্যবহার করুন । আপনি পাবেন প্রাকৃতিক উজ্জ্বলতা । চুলের রুক্ষতা কমিয়ে চুলকে করে দেবে ঝলমলে।
চুলের মসৃণতার জন্য কালোকেশী বেটে নিয়ে পেস্ট টির সাথে টক দই , মধু ও পরিমান মত
লেবু মিশিয়ে তাতে যে কোন একটি তেল পরিমান মত নিয়ে ভালোভাবে পেস্ট করে নেওয়ার
পরে এই প্যাকটি চুলের গোড়া থেকে একেবারে আগা পর্যন্ত ভালোভাবে লাগিয়ে নিন ।
লাগানোর পর ৩০ থেকে ৪০ মিনিট রেখে দিন যাতে কালোকেশীর পেস্ট টি চুলে ভালোভাবে কাজ
করে। সবসময় মনে রাখবেন বাজারের তৈরি হেয়ার প্যাকের চেয়ে ঘরে তৈরি হেয়ার
প্যাকএর খরচ কম ও বেশি কার্যকরী ।
কালোকেশী ব্যবহারে সাবধানতা
চুলের যত্নে কালোকেশী ব্যবহার জানতে পারলেই আপনি কালোকেশী ব্যবহারে সাবধানতা
অবলম্বন করতে পারবেন । যাদের শরীরে ইচিং এর প্রবলেম আছে তারা একটু স্কিনে টেস্ট
করে নিতে পারেন । যদি কোন রকম জ্বালাপোড়া করে অথবা চুলকায় অথবা অস্বস্তি লাগে
তাহলে এটি ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন । আবার অনেকে ভালো ফলাফল পাওয়ার জন্য বেশি
বেশি ব্যবহার করার ফলে চুলের গোড়ায় ময়লা জমে হয়তো বা উপকারের চেয়ে ক্ষতি
হয়ে থাকতে পারে ।
কালোকেশী ব্যবহার করার সময় খেয়াল রাখবেন , আপনি যখন কালোকেশী দিয়ে হেয়ার প্যাক তৈরি করবেন । তখন যেন কালোকেশীর চেয়ে অন্যান্য উপাদান বেশি না হয়ে থাকে । কারণ এতে করে দেখা যাবে যে কালোকেশী ব্যবহারের উদ্দেশ্য টি যেন বিফলে না যায় । কালোকেশী প্যাক ব্যবহারের পর দীর্ঘক্ষণ চুলে না রাখাই ভালো। কারণ এতে করে দেখা যাবে চুলের গোড়া ভেজা থাকায় নরম হয়ে যেতে পারে । তাই ৩০ থেকে ৪০ মিনিট এর মত রেখে সেটা ধুয়ে নেওয়া অর্থাৎ শ্যাম্পু করে ফেলা অনেক ভালো ।
তাই নিম্নে চুলের যত্নে অতিরিক্ত কালোকেশী ব্যবহারে অপকারিতা আলোচনা করা হলঃ
- অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে কালকে ইরিটেশন দেখা দিতে পারে
- চুলের গোড়া অতিরিক্ত তেল ব্যবহারের কারণে বন্ধ হয়ে যেতে পারে
- মাথার স্কেলপে ফাঙ্গাল ইনফেকশন দেখা দিতে পারে
- মুখের ত্বকে ব্রণ হতে পারে।
- গরম তেলের মাত্রা বুঝতে না পেরে ব্যবহার করলে ত্বকের ক্ষতি হতে পারে
শেষ কথাঃ চুলের যত্নে কালোকেশী ব্যবহার
আমরা ইতোমধ্যে জেনে গেছি যে কালোকেশী বা ভৃঙ্গরাজ একটি ভেষজ উদ্ভিদ । যা ব্যবহারে
চুল হবে কালো , লম্বা , গোড়া মজবুত ও মসৃণ । অনেক সময় দেখা গেছে যে চুল
খসখসে হয়ে যায় এবং চুলের আগা ফেটে থাকে। সে ক্ষেত্রেও আপনি কালোকেশী বেটে এতে
তৃষি দানা এক চামচ ও জবা ফুল ও তার পাতা বেটে সঙ্গে মেহেদি পাতা কাঁচা সংগ্রহ করে
তার বেটি নিয়ে সামান্য পরিমাণে অলিভ অয়েল দিয়ে একটা সুন্দর পেস্ট বানিয়ে চুলে
লাগাতে পারেন। এতে আপনার চুলের আগা ফাটা বন্ধ হবে ।
নিয়ম করে কালোকেশী ব্যবহারে যেমন উপকার পাওয়া যায় তেমনি অসাবধানতায় ব্যবহার করলে অনেক সময় তা ক্ষতির ও কারণ হতে পারে । তাই ইরিটেশনের প্রবলেম থাকলে আপনি ত্বকে পরীক্ষা করে নিয়ে অবশ্যই ব্যবহার করুন । তবে কালোকেশী ব্যবহারের সময় হ্যান্ডগ্লভস পরে তা মাথায় ব্যবহার করবেন। কারণ কালোকেশীর রস হাতের ত্বকে লেগে কালো হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকতে পারে। তবে চুল সুন্দর রাখার জন্য আপনি কালোকেশী তেল ব্যবহার করতে পারেন অনায়াসে।


.webp)
আপনার মূল্যবান মতামত দেন। এখানে প্রতিটি মতামতের রিভিউ প্রদান করা হয়।
comment url