কাঁচা হলুদ দিয়ে কিভাবে ফর্সা হওয়া যায় - গোপনীয়তা জানুন
কাঁচা হলুদ দিয়ে কিভাবে ফর্সা হওয়া যায় তা জেনে নিন খুব সহজে। ত্বকের যত্নে কাঁচা হলুদের ব্যবহার নতুন কিছু না । ভারতীয় উপমহাদেশে এই প্রাকৃতিক উপাদানটি যুগ যুগ ধরে রূপচর্চায় ব্যবহৃত হয়ে আসছে। অনেকেই বলেন , এটি ত্বক ফর্সা করে । ব্রণ দূর করে এমনকি ত্বক উজ্জ্বল করে তোলে ।
সত্যি কি কাঁচা হলুদ ত্বক ফর্সা করে নাকি এটি প্রচলিত ধারা । আজকের আর্টিকেলটিতে আমরা জানব কাঁচা হলুদের আসল কার্যকারিতা । হলুদের প্রধান উপাদান হল কারকিউমিন , অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও অ্যান্টিফ্লেমেটরি প্রপার্টিজ যুক্ত । ফলে ত্বকের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া দূর করতে সাহায্য করে ।
পেজ সূচিপত্রঃ কাঁচা হলুদ দিয়ে কিভাবে ফর্সা হওয়া যায়
- কাঁচা হলুদ দিয়ে কিভাবে ফর্সা হওয়া যায়
- ত্বকে কাঁচা হলুদের কার্যকারিতা
- কাঁচা হলুদ ব্যবহারের সঠিক উপায়
- রূপচর্চায় হলুদের ব্যবহার
- ফেসপ্যাক হিসেবে হলুদের ব্যবহার
- কাঁচা হলুদ ব্যবহারে সাবধানতা
- কাঁচা হলুদের উপকারিতা ও খাওয়ার নিয়ম
- রাতে রূপচর্চায় কিভাবে হলুদ ব্যবহার করবেন
- কাঁচা সোনার মতো উজ্জ্বল ত্বক হবে কাঁচা হলুদে
- শেষ কথাঃ কাঁচা হলুদ দিয়ে কিভাবে ফর্সা হওয়া যায়
কাঁচা হলুদ দিয়ে কিভাবে ফর্সা হওয়া যায়
কাঁচা হলুদে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও অ্যান্টি ফ্লেমেটরি প্রপার্টিজ যুক্ত । এটি ত্বকের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া দূর করতে সাহায্য করে এবং ব্রণ ও দাগ ছোপ কমাতে কার্যকরী ভূমিকা রাখে। মেলানিন নামে এক প্রাকৃতিক রঞ্জক আছে, যা আমাদের ত্বকের স্বাভাবিক রং বা স্কিন টোন মূলত নির্ভর করে থাকে । যখন মেলানিন কারো তাকে বেশি হয় তখন সেই ত্বক অপেক্ষা কৃত গাড়ো দেখায় । আবার কারো কম হলে তখন তুলনামূলক সেটা উজ্জ্বল দেখায়। সেই ক্ষেত্রে হলুদের মধ্যে থাকা বায়ো একটিভ উপাদান আছে যার নাম কার কিউমিন ।
সেই ক্ষেত্রে কাঁচা হলুদ শরীরের ত্বকে ফর্সা না করলেও নিয়মিত ব্যবহারের ফলে ধীরে ধীরে ত্বক অনেক উজ্জ্বল দেখায় । কাঁচা হলুদ বেটে রস বের করে নিয়মিত তা আখের গুড় দিয়ে খেতে পারলে ত্বকের মধ্যে এক ধরনের গ্লো দেখা দেয় । এতে করে ত্বকে সৌন্দর্য বাড়তে থাকে । ফলে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হল যে কাঁচা হলুদ নিয়মিত ব্যবহারের ফলে ত্বক অনেক ব্রাইট দেখায় । কিন্তু স্থায়ী ফর্সা করার দিকে নয়। অর্থাৎ আপনার জন্মগত যে স্কিন টোন আছে তা পরিবর্তন করে দেয় না ।
ত্বকে কাঁচা হলুদের কার্যকারিতা
কাঁচা হলুদ দিয়ে কিভাবে ফর্সা হওয়া যায় আপনি সঠিকভাবে জানলে আপনার জন্য ব্যবহার বিধি অনেক সহজ হবে। অনেকেই মনে করেন কাঁচা হলুদ সরাসরি ত্বক ফর্সা করে। তবে সত্যিটা হল হলুদ ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে সাহায্য করতে পারে । কিন্তু এটি আসলে ত্বকের মেলানিন লেভেল কমিয়ে ত্বক ফর্সা করে না । ত্বকের কালচে দাগ হালকা করতে পারে ।ব্রন বা ফুসফুড়ির সমস্যা কিছুটা কমাতে পারে । তবে এটি স্বাভাবিক ত্বকের রং স্থায়ীভাবে পরিবর্তন করতে পারে না।
আরো পড়ুনঃ পুরুষদের জন্য অ্যালোভেরার উপকারিতা
আপনি যদি নিয়মিত রূপচর্চায় কাঁচা হলুদ দিয়ে একটা ফেসপ্যাক তৈরি করে মুখের
ত্বকে লাগাতে পারেন তাহলে আপনার মুখের যে কোন কালো দাগ , ব্রনের দাগ ও
পিগমেন্টেশন ধীরে ধীরে কমে যাবে । শুধু তাই নয় নিয়মিত কাঁচা হলুদ ব্যবহারে ত্বক
হবে আপনার উজ্জ্বল ও প্রাণবন্ত । সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি বা ফ্রিরেডিকেলের
প্রভাবে আপনার ত্বকে যে কালচে দাগ বা লালচে ভাব দেখা দেয়। তা কমাতে খুবই
কার্যকরী একটি উপাদান হল কাঁচা হলুদ ।
কাঁচা হলুদ ব্যবহারের সঠিক উপায়
যদি আপনি কাঁচা হলুদ ব্যবহার করতে চান তাহলে সরাসরি মুখে লাগানোর আগে কিছু নিয়ম
মেনে চলা উচিত। দুধ বা দইয়ের সাথে মিশিয়ে ব্যবহার করুন এটি ত্বককে ময়েশ্চারাইজ
করবে। অতিরিক্ত সময় ধরে লাগিয়ে রাখবেন না । বেশি সময় থাকলে ত্বকে হলুদের রং
বসে যেতে পারে । সপ্তাহে দুইবার অন্তত কাঁচা হলুদের প্যাকটি ব্যবহার করুন। কারণ
প্রতিদিন এই কাঁচা হলুদ ব্যবহার না করাই ভালো কারণ প্রতিদিন ব্যবহারের ফলে ত্বক
শুষ্ক হতে পারে ।
সংবেদনশীল ত্বকের জন্য আগে প্যাচ টেস্ট করুন। কারণ কিছু মানুষের ত্বকে এটি রেশ বা
এলার্জির কারণ হতে পারে। তাছাড়া সরাসরি ত্বকে কাঁচা হলুদ ব্যবহার না করাই ভালো ।
নিয়মিত কাঁচা হলুদ ব্যবহারের ফলে আপনার ত্ব থাকে তারুণ্য দীপ্তময় ও
স্বাস্থ্যজ্জ্বল । তাই আপনি তা ধরে রাখার জন্য কাঁচা হলুদের এন্টিঅক্সিডেন্ট
উপাদান ত্বকের কোষ কে সতেজ রাখতে সহায়তা করে এবং বলিরেখা প্রতিরোধ করে থাকে। তাই
আপনি কাঁচা হলুদের সাথে মধু ও সামান্য পরিমাণে চিনি ও লেবুর রস মিশিয়ে ব্যবহার
করতে পারেন ।
রূপচর্চায় হলুদের ব্যবহার
হলুদের রয়েছে ত্বক ফর্সা করার উপাদান । তাই ফেসিয়াল প্যাকের সাথে অল্প হলুদ বাটা মিশিয়ে নিয়মিত ব্যবহার করলে ধীরে ধীরে ত্বক হয়ে উঠবে উজ্জ্বল। নিষ্প্রাণ ত্বকে করে তোলে সতেজ। ত্বকের বিভিন্ন দাগ দূর করতে হলুদের জুড়ি নেই । দু চামচ হলুদ গুড়ার সাথে অল্প গোলাপজল মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করে মেস্তা বা ব্রণ আক্রান্ত ত্বকে নিয়মিত ব্যবহার করুন । আস্তে আস্তে এইসব সমস্যা কমে আসবে । দাগ দূর করতে অল্প হলুদের পেস্টের সাথে আধা চামচ মধু ও এক চামচ টক দই মিশিয়ে দাগের উপর ব্যবহার করুন । শুকিয়ে গেলে তুলে ফেলুন ।
আরো পড়ুনঃ ফর্সা হওয়ার সবচেয়ে ভালো সাবান
হলুদের থাকা ইনফ্লামেটরি প্রপার্টিজ ত্বকের জ্বালাপোড়া দূর করে ত্বককে রাখে শীতল । এজন্য এক চামচ হলুদের সাথে আধা কাপ টক দই মিশিয়ে ত্বকে লাগিয়ে রাখুন । পনেরো মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন । যাদের মুখে অবাঞ্চিত লোমের আধিক্য দেখা দেয় তারা যদি নিয়মিত হলুদের ব্যবহার করে তাহলে ধীরে ধীরে এসব সমস্যা থেকে আপনি মুক্তি পেতে পারেন । এইজন্য এক চামচ হলুদ বাটার সাথে দুই চামচ দুধ ও বেসন মিশিয়ে লাগিয়ে রাখুন । শুকিয়ে গেলে ধুয়ে ফেলুন। নিয়মিত ব্যবহারে হেয়ার গ্রোথ কমে আসবে ।
ফেসপ্যাক হিসেবে হলুদের ব্যবহার
কাঁচা হলুদ দিয়ে কিভাবে ফর্সা হওয়া যায় তা প্রথমে জেনে নিন । রোদে পোড়া ত্বকের উজ্জ্বলতা ফিরিয়ে আনতে হলুদের তৈরি ফেসপ্যাক গুলো দ্রুত কাজ করে । কাঁচা হলুদ বাটা , কাঁচা দুধ অথবা টক দই একসাথে মিশিয়ে ত্বকে লাগালে এবং তা ১৫ মিনিট পর ধুয়ে ফেললে ত্বকের কালচে ভাব দূর হয়ে যায় । তোকে ফিরে আসে উজ্জ্বলতা । ত্বকের বলি রেখা ছাড়াতে হলুদ বাটা , বেসন, কাচা দুধ লাগিয়ে ১৫ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন । এতে ত্বকে বলি রেখা ও মেছতার সমস্যা চমকপ্রদক সমাধান হয় । কাঁচা হলুদ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবেও বেশ কার্যকরী ।
ত্বক কে ব্রণ এবং ব্রনের দাগ মেলাতে কাঁচা হলুদ বাটা , লেবুর রস, কেশর একসাথে মিশিয়ে ত্বকে লাগিয়ে রাখুন । ১৫ মিনিট পর তা ধুয়ে ফেলুন । শুষ্ক, স্বাভাবিক, তৈলাক্ত ও মিশ্র ত্বকের জন্য হলুদের ব্যবহার সব ফেস প্যাকেই থাকে । কাঁচা হলুদ বাটা , কমলার খোসা বাটা , মুলতানি মাটি ও মধু একসাথে মিশিয়ে হাত মুখ পায়ে লাগিয়ে ১৫ মিনিট পর তা ধুয়ে ফেলুন । এতে ত্বক থাকবে উজ্জ্বল কোমল ও মসৃণ । নারকেল তেলের সাথে হলুদ বাটা মিশিয়ে পায়ের গোড়ালিতে ফাটা অংশে মেখে ১৫ মিনিট পর ধুয়ে ফেললে পায়ের ত্বক কোমল মসৃণ হবে এবং নিয়মিত ব্যবহারে পা ফাটার সমস্যা থেকে মুক্ত হবেন।
কাঁচা হলুদ ব্যবহারে সাবধানতা
কাঁচা হলুদ দিয়ে কিভাবে ফর্সা হওয়া যায় তা জানা থাকলে আপনি সাবধানতা অবলম্বন
করে ব্যবহার বিধি নিয়মের মধ্যে করতে সক্ষম হবে এবং ফলাফল পাবেন খুব তাড়াতাড়ি ।
ব্যবহারের ফলে ত্বক হলুদ বর্ণ ধারণ করতে পারে। যা সহজে উঠতে চায় না ত্বক থেকে ।
এছাড়াও অতিরিক্ত ব্যবহারের ত্বক শুষ্ক ও সংবেদনশীল হয়ে যেতে পারে । তাই পরিমিত
পরিমাণে ব্যবহার করায় ভালো । যদি হলুদ থেকে শেষে এলার্জিক রিয়াকশন দেখা দেয়
তাহলে স্কিনের এই উপাদানটি এড়িয়ে চলায় ভালো ।
আরো পড়ুনঃ চুলের যত্নে কালোকেশী ব্যবহার - টিপস ও ট্রিকস সহ
কাঁচা হল ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে সাহায্য করতে পারে। কিন্তু এটি ত্বকের প্রকৃত রং বদলে ফেলার কোন ম্যাজিক্যাল উপাদান নয় । যদি ত্বকের যত্ন নিতে চান তাহলে সঠিক স্কিন কেয়ার রুটিন অনুসরণ করুন এবং স্বাস্থ্যকর খাবার খান । শুধু তাই নয় এই স্কিন কেয়ার রুটিন ফলো করার সাথে সাথে তা নিয়মিত পরিচর্যা করতে পারলে বেশি ফল পাবেন । তবে আধা কাপ হলুদ রসের সাথে আধা চা চামচ মধু মিশিয়ে খেলে শরীরের টক্সিন দূর হয় । খেয়াল রাখতে হবে প্রতিটি কাজ নিয়মিতভাবে সঠিক ভাবে করতে পারলে তার ফলাফল পাওয়া যায় ।
কাঁচা হলুদের উপকারিতা ও খাওয়ার নিয়ম
আমরা সব সময় হলো শারীরিক যে সমস্যাগুলো থাকে সেগুলো যেন ন্যাচারালি আমরা রিমুভ
করতে পারি সেই চেষ্টায় প্রতিনিয়ত আমাদের কাছে থাকে। যখন বিভিন্ন ঋতুর পরিবর্তন
হয় অর্থাৎ শীতকালে কাঁচা হলুদটা যেহেতু বেশি পাওয়া যায় এবং যুগে যুগে এই কাঁচা
হলুদটা কিন্তু স্কিনের যত্নেই ব্যবহার করা হয়েছে সবচাইতে বেশি পরিমাণ। স্কিনের
উপরে লাগানোর চেয়ে যখন আমরা খাব তখন ইন্টারনাল এটি খুব বেশি কাজ করে এবং
রিসার্চে দেখা গেছে যারা কাঁচা হলুদের রস বা কাঁচা হলুদটা চিবিয়ে খান তারা অনেক
সাইডে ডেভেলপমেন্ট বেশি পেয়েছেন ।
নতুন করে কাঁচা হলুদ খাওয়া নিয়ে এত বেশি গবেষণা হয়েছে যে আমেরিকা ,
ইউরোপ ,ইংল্যান্ড এসব কান্ট্রিতে যদি আমরা কার্কিউমেন বা হলুদের গুনাগুন
সম্পর্কে জানি তাহলে দেখব যে সাপ্লিমেন্টারি হিসেবে অনেক কিছু বের করে ফেলেছে ।
হলুদে যে বায়ো একটিভ উপাদান আছে। এই কারকিউমিনের ভূমিকা হল যারা আর্থাইটিসের
ব্যথায় ভুগে থাকেন। সেই আর্থাইটিস রিমুভ করে কাঁচা হলুদ খাওয়ার ফলে ।
অর্থাৎ ন্যাচারাল ভাবে এই কারকিউমিন দ্বারা আপনি রিমুভ পাচ্ছেন। প্রচুর পরিমানে
অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল উপাদান থাকায় দাঁতের যত্নে এটি খুব ভালো।
করতে চান এই হলুদের মধ্যে আছে রি অক্সিডেন্ট যেটির রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা
বাড়াতে সহ ভিতর থেকে ব্যাকটেরিয়া গুলোকে একেবারে কিল করে। আপনার স্কিনকে
সতেজ করবে। খাদ্যনালী কে পরিষ্কার করে দেবে। ফলে গ্যাসের সমস্যা দূর
করতে সহায়তা করে থাকবে । যাদের ফ্যাটি লিভার থাকে, এই ফ্যাটি লিভার তাকে
কমাতে কিন্তু কাঁচা হলুদ সাহায্য করে থাকে। তাই নিয়মিত কাঁচা হলুদের রস বা কাঁচা
হলুদ পরিমান মত চিবিয়ে খেলে আপনি শারীরিকভাবে অনেক সুস্থ ও সতেজ থাকতে
পারবেন।
রাতে রূপচর্চায় কিভাবে হলুদ ব্যবহার করবেন
কাঁচা হলুদ দিয়ে কিভাবে ফর্সা হওয়া যায় তা জানতে চোখ রাখুন । রূপ
বিশেষজ্ঞদের মতে গায়ের রং উজ্জ্বল হওয়ার জন্য বা কোন দাগ দূর করার জন্য কাঁচা
হলুদের ভূমিকা অপরিসীম । তবে মনে রাখতে হবে হলুদের উপকারিতা পাওয়ার জন্য কখনোই
ত্বকে সরাসরি হলুদ লাগাবেন না। রাতে মুখ পরিষ্কার করার পর হলুদের সঙ্গে সামান্য
চালের গুড়া ও গোলাপজল মিশিয়ে একটি পেস্ট তৈরি করে নিন। ন মুখে মেসেজ করে ২০
মিনিট মতো অপেক্ষা করুন। এরপর নরমাল পানি দিয়ে মুখটি ধুয়ে ফেলুন।
চালের গুড়া প্রাকৃতিকভাবে স্ক্রাব এর কাজ করে বলে ত্বকে মরা কোষগুলো আপনার দূর
করে থাকে এবং আপনার ত্বক হবে রেশমি আভা । তবে ফেসপ্যাক টি যখন আপনার মুখে
শুকিয়ে যাবে তখন ভেজা কটনের সাহায্যে হালকা করে মেসেজ করে মুখ ধুয়ে নিতে হবে।
এরপর ভালো একটি ব্র্যান্ডের ময়েশ্চারাইজার ক্রিম লাগিয়ে নিয়ে ঘুমিয়ে যেতে হবে
। প্রতিদিন হলুদের প্যাক ব্যবহার করার প্রয়োজন নেই সপ্তাহে তিন দিন ব্যবহার করলে
যথেষ্ট এবং পরখ করুন নিজের ত্বকের গ্লো।
কাঁচা সোনার মতো উজ্জ্বল ত্বক হবে কাঁচা হলুদে
কাঁচা হলুদ দিয়ে কিভাবে ফর্সা হওয়া যায় তা জেনে রাখা আমাদের জন্য উচিত। রূপটানের কথা যদি উঠে তাহলে প্রথম দিকেই থাকবে কাঁচা হলুদের নাম । রূপচর্চায় এই দুনিয়াতে হলুদ রাজত্বকাল করে আসছে চিরকাল জুড়ে । মুখের নিষ্প্রাণ বিবর্ণ ভাব কাটিয়ে উজ্জলতা এনে দেয় এবং সতেজতায় মুখটি প্রানবন্ত করে। মুখের কালো দাগ ছোপ হালকা করে তোলে। যে কোন প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে এসব ভূমিকা রাখে একমাত্র হলুদ ব্যবহারে ।
মুখ যখন নিষ্প্রাণ ক্লান্ত দেখাবে তখনই আপনি হাতের কাছে হলুদ আর ময়দা দুটো টেবিল চামচ নিয়ে এক টেবিল চামচ আমন্ড ওয়েল সাথে নিয়ে তিন টেবিল চামচ দুধ । এসব মিশিয়ে ক্রিমের মতো করে একটা সুন্দর পেস্ট তৈরি করে নিন। মুখ পরিষ্কার করে নিয়ে আপনি সেই পেজটি মুখে লাগিয়ে নিন তারপর অপেক্ষা করুন মিনিট ১৫ । শুকিয়ে গেলে তা একটা ভালো কটনের মাধ্যমে কিছু পানি দিয়ে ঘষে ঘুষে আলতো করে সেগুলো ধুয়ে ফেলুন। পরবর্তীতে নারিকেল তেল হাতে করে নিয়ে তা মুখে লাগিয়ে নিন।
শেষ কথাঃ কাঁচা হলুদ দিয়ে কিভাবে ফর্সা হওয়া যায়
হলুদকে বলা হয় সোনালী মসলা। উৎপত্তিস্থল পাশ্চাত্য হলেও ভারত উপমহাদেশে মসলা
হিসেবে হলুদের ব্যবহার ব্যাপক । এছাড়াও রূপচর্চার উপাদান হিসেবেও এই অঞ্চলে
হলুদের ব্যবহার হয়ে আসছে সেই প্রাচীনকাল থেকে । এইসব ছাড়াও অ্যান্টিসেপটিক
, এন্টি অক্সিডেন্ট , অ্যান্টি এজিং ও এন্টি ইনফ্লামেটরি সহ বিভিন্ন ভেষজ গুণের
জন্য হলুদের ব্যবহার হয়েই থাকে । ত্বক ,চুল ছাড়াও দাঁতের যত্নেও হলুদে
রয়েছে বিভিন্ন কার্যকর ক্ষমতা ।
আপনি যদি শুধু কাঁচা হলুদ মুখে মাখেন তাহলে ত্বক ভীষণ হলদে দেখাবে এবং বার্ন
হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। তাই তার সঙ্গে যদি মেশাতে পারেন বেসন বা চন্দন এতে
করে একটা ফেসপ্যাক তৈরি হয়ে যাবে এবং এর কার্যকারিতা কয়েক গুণ বেড়ে যাবে ।
আপনার ত্বকের তেলতেলে ভাব কাটিয়ে বাড়িয়ে তুলে ত্বকের কোমলতা। আর উজ্জ্বল রাখতে
চাইলে বেছে নিন হলুদ দিয়ে তৈরি কিছু অসাধারণ ফেসপ্যাক । কাঁচা হলুদ দিয়ে
ফেসপ্যাক তৈরি করে নিয়মিত ব্যবহার করুন এবং নিজেকে করে তুলুন এক অনন্যা

.webp)
.webp)
আপনার মূল্যবান মতামত দেন। এখানে প্রতিটি মতামতের রিভিউ প্রদান করা হয়।
comment url