ব্রণের গর্ত দূর করার ঘরোয়া উপায় - ও ১০টি সহজ টিপস

ব্রণের গর্ত দূর করার ঘরোয়া উপায় । ব্রণ একটি সম্পূর্ণ নিরাময় যোগ্য রোগ । ব্রণের আধুনিক , কম্বাইন্ড এবং ইন্টিগ্রেটেড চিকিৎসা নেওয়া হয় তাহলে ব্রণ সম্পূর্ণ ভালো হয়ে যায়। শুধু তাই নয় পরবর্তীতে যে কমপ্লিকেশন , পিগমেন্টেশনস , স্কারস সেটাও নিরাময় করা সম্ভব।

ব্রণের-গর্ত-দূর-করার-ঘরোয়া-উপায়

তবে আজকের আর্টিকেলটিতে আপনাদের সবার জানার জন্য কিছু ইনফরমেশন শেয়ার করি । আগে শোনা যেত টিনেজ বয়সে হরমোনাল চেঞ্জ হয়। যার জন্য মুখে ব্রণ হয়ে থাকে । আজকাল বিভিন্ন গবেষণা থেকে জানা যায় যে , লাইফস্টাইলে ব্র্রণের উপরে অনেক বেশি সম্পর্ক রয়ে গিয়েছে।

পেজ সূচিপত্রঃ  ব্রণের গর্ত দূর করার ঘরোয়া উপায়

ব্রণের গর্ত দূর করার ঘরোয়া উপায়

ব্রণ হল ত্বকের এমন এক সমস্যা যেখানে মুখ , কাঁধ বা পিঠের ত্বকে ছোট ছোট ফুসকুড়ি , পিম্পল , ব্ল্যাকহেড বা হোয়াইট হেডস দেখা দেয় । এটি সাধারণত ঘটে থাকে যখন ত্বকের লোমকূপ তেল বা মরা কোষ আর জীবাণুতে বন্ধ হয়ে যায় । আর তাই লাইফস্টাইল চেঞ্জ করার সাথে সাথে ব্রণ কমানোর ঘরোয়া উপায়গুলো নিম্নে আলোচনা করা হলোঃ

  • মধু ও দারুচিনির ফেসপ্যাকঃ মধুতে আছে অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল গুণ। দারুচিনি রক্ত সঞ্চালন বাড়ায় । এক চামচ মধু , আধা চামচ দারুচিনি গুড়া মিশিয়ে পেস্ট বানিয়ে মুখে লাগান । ১০ থেকে ১৫ মিনিট পর কুসুম কুসুম গরম পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন । সপ্তাহে দুই থেকে তিন দিন ব্যবহার করুন ।
  • লেবুর রসঃ লেবুর রস এ ভিটামিন সি আছে । যা ত্বক উজ্জ্বল করে ও ব্রণের দাগ হালকা করে। লেবুর রস সামান্য নরমাল পানিতে মিশিয়ে তুলো দিয়ে মুখে লাগিয়ে ১০ থেকে ১৫ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন । তবে মনে রাখবেন রোদে বেরোনোর আগে কখনোই লেবুর রস মুখে ব্যবহার করা যাবে না । কারণ লেবুর রস রোদে ত্বক পোড়ে   ।
  • অ্যালোভেরা জেলঃ ত্বকের লালচে ভাব কমায় । ব্যাকটেরিয়া মারে , ত্বক ঠান্ডা রাখে । টাটকা অ্যালোভেরার পাতার জেল বের করে ভিটামিন ই ক্যাপ মিশিয়ে মুখে লাগান । ২০ মিনিট রেখে তা ধুয়ে ফেলুন । প্রতিদিন রাতে ঘুমোনোর আগে ব্যবহার করা যায় ।
  • তুলসী বা নিম পাতার প্যাকঃ প্রাকৃতিক অ্যান্টিসেপটিক । ত্বক থেকে জীবাণু দূর করে । কয়েকটি নিম বা তুলসী পাতা বেটে পেস্ট বানান । তাতে অল্প পানি বা গোলাপজল মিশিয়ে নিন । এরপর মুখে মেখে ১৫ মিনিট পর তা ধুয়ে ফেলুন । সপ্তাহে তিনবার করলে এর ভালো ফলাফল পাবেন ।
  • টি ট্রি অয়েলঃ খুব শক্তিশালী ব্যাকটেরিয়া নাশক তেল । এক ফোঁটা টি ট্রি অয়েল , দুই ফোঁটা নারকেল তেলে মিশিয়ে ব্রণ আক্রান্ত স্থানে লাগান । এক ঘন্টা পর তা ধুয়ে ফেলুন । সরাসরি মুখে লাগাতে যাবেন না এতে করে ত্বক জ্বালা করতে পারে ।
  • অ্যাপেল সিডার ভিনেগারঃ ত্বকের PH ভারসাম্য রাখে ও ব্যাকটেরিয়া মারে । এক অংশ ভিনেগার ও তিন অংশ পানি মিশিয়ে নিন । তুলো দিয়ে সারা মুখে লাগান । পাঁচ মিনিট রেখে তা ধুয়ে ফেলুন । সপ্তাহে দুই দিন যথেষ্ট।
  • দই ও বেসনের প্যাকঃ ত্বকের তেল কমায় ও মরা কোষ তুলে দেয় । এক চামচ দই , সঙ্গে এক চামচ বেসন ও দুই তিন ফোটা লেবুর রস পেস্ট বানিয়ে মুখে লাগিয়ে দিন । শুকিয়ে গেলে তা ধুয়ে ফেলুন । মুখ মসৃণ ও উজ্জ্বল হবে । ফলে গর্ত কিছুটা রিকভার করবে ।
  • বরফ সেকঃ ফুলে থাকা ব্রণ কমায় ও রক্ত চলাচল ঠিক রাখে । একটি পরিষ্কার কাপড়ে বরফ মুড়ে মুখে এক থেকে দুই মিনিট ঘুষুন । দিনে দুইবার করতে পারলে বেশি ভালো ফলাফল পাওয়া যাবে ।

ব্রণ হওয়ার মূল কারণ

অতিরিক্ত তেল নিঃসরণ বা এক্সেস সিরাম প্রোডাকশন আমাদের ত্বকের নিচে থাকে শিবেসিয়াম গ্ল্যাডস। যেগুলো ত্বক নরম ও মুসলিম রাখতে তেল বা সিরাম তৈরি করে । কিন্তু যখন শরীরে হরমোনের পরিবর্তন হয় । যেমন কৈশোরে , মাসিকের আগে বা গর্ভাবস্থায় । তখন ওই গ্রন্থিগুলো অনেক বেশি তেল তৈরি করে । এই অতিরিক্ত তেল জমে গেলে তা বন্ধ হয়ে যায় এবং ব্রণ শুরু হয় ।

  • মরা ত্বক জমে থাকাঃ প্রতিদিনই নতুন কোষ তৈরি করে । আর পুরনো কোষ ঝরে পড়ে । কিন্তু অনেক সময় এই মরা কোষ ঠিকভাবে ত্বক থেকে বের হতে পারে না । ফলে এগুলো লোমকূপে জমে গিয়ে সেখানে তেল ও জীবাণুর সঙ্গে মিশে ব্রণের সৃষ্টি করে ।
  • ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণঃ লোমকূপ বন্ধ হয়ে গেলে ভেতরে অক্সিজেন প্রবেশ করতে পারে না । আর এই অবস্থায় প্রোপিও নাম ব্যাকটেরিয়া , একনিসিয়াম ব্যাকটেরিয়া দ্রুত বাড়তে থাকে । এই ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ ঘটায় । ফলে ত্বক ফুলে যায় ও লালচে হয় ব্যথা করে । এটাকে আমরা সাধারণভাবে ব্রণ বলি ।
  • হরমোনের পরিবর্তনঃ কৈশোরে বা মেয়েদের মাসিক চক্রের সময় শরীরে এন্ড্রয়েজ নামক হরমোন বেড়ে যায় । এই হরমোন তেল গ্রন্থিকে উত্তেজিত করে । ফলে তেল উৎপাদন বাড়ে । এই অতিরিক্ত তেল পরবর্তীতে তেলের জন্ম দেয় ।
  • অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভাসঃ খাবারের সাথেও ব্রণের গভীর সম্পর্ক আছে । বেশি চিনি , মিষ্টি  , ফাস্টফুড , চকলেট , দুধ জাতীয় খাবার , অতিরিক্ত তেলে ভাজা খাবার এইসব শরীরে ইনসুলিনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয় । যা হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে এবং ব্রণ বাড়িয়ে দেয় । এছাড়া পর্যাপ্ত পানি না খেলে ত্বকে টক্সিন জমে ফলে ব্রণ আরো বেড়ে যেতে পারে ।
  • স্ট্রেস ও মানসিক চাপঃ চিন্তা , মানসিক চাপ বা ঘুমের অভাবেও শরীরে কটি সেল হরমোন বেড়ে যায় । এই হরমোন তেল গ্রন্থিকে অতি সক্রিয় করে দেয় । তাতে ব্রণ আরো বেশি দেখা দেয় ।
  • অপরিচ্ছন্নতা বা বাহ্যিক কারণঃ । মুখের ত্বক নিয়মিত ভালোভাবে না ধোয়া । মেকআপ পরিস্কার না করা নোংরা বালিশ কভার বা মোবাইল ব্যবহার । এগুলো ত্বকে ব্যাকটেরিয়া জমে ত্বকে সংক্রমণ ঘটায় । ছেলেদের ক্ষেত্রে আবার ঘাম , ধুলোমাটি , হেলমেট বা দাড়ির নিচে ত্বকের ঘা্মে ব্রণ বাড়ায় ।
  • ঔষধ বা পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াঃ কিছু ঔষধ যেমনঃ স্টেরয়েড , জন্মনিয়ন্ত্রণ পিল বা লিথিয়াম ব্রণ বাড়াতে পারে । তাছাড়া ভারী তেলযুক্ত ক্রিম বা কসমেটিক্স লোমকূপ বন্ধ করে দেয় ।

সুস্থ জীবনধারা ও টিপস

আমরা বর্তমানে যে আরবান বা শহুরে লাইফস্টাইল মেন্টেন করি। এটাতে আসলে আমরা স্বাস্থ্যকর লাইফ স্টাইল মেইনটেইন করতে পারিনা । আমরা প্রচুর পরিমাণে জাঙ্ক ফুড খেয়ে থাকি। আমরা পানি খুব কম খেয়ে থাকি । শাকসবজি ও ফ্রেশ ফলমূল খুব কম খাওয়া হয়ে থাকে । বেভারেজ ও প্রচুর সুগার জাতীয় খাবার খেয়ে থাকি। রাতে খুব কম হয় । স্ট্রেস হয় । সবগুলোই কিন্তু ব্রণ তৈরি করার জন্য এবং ব্রণ এগ্রোভেশনের জন্য দায়ী ।

 আরো পড়ুনঃ  চুলের যত্নে কালোকেশী ব্যবহার - টিপস ও ট্রিকস সহ

আর এই ব্রণ থেকে অসাবধানজনিত কারণে তৈরি হয় গর্ত । তাই ব্রণের গর্ত দূর করার ঘরোয়া উপায় জেনে নিন ও সুস্থ জীবনধারা ও টিপস মেনে চলুন । যা নিম্নে আলোচনা করা হলো।

  • প্রতিদিন দুই থেকে তিনবার মুখ পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে নিন ।
  • হাত দিয়ে মুখে বারবার স্পর্শ করবেন না ।
  • ঘুমের সময় বালিশের কভার ও তোয়ালে পরিষ্কার রাখুন ।
  • প্রতিদিন অন্তত আট গ্লাস পানি খান ।
  • অতিরিক্ত তেল , চিনি ও ফাস্টফুড এড়িয়ে চলুন ।
  • রাতে সাত থেকে আট ঘন্টা ঘুমান ।
  • মানুষিক চাপ থেকে দূরে থাকুন ।
  • হালকা ব্যায়াম বা মেডিটেশন করুন ।

ব্রণের গর্ত দূর করার কার্যকারিতা

ব্রণের গর্ত দূর করার ঘরোয়া উপায় - ও কার্যকারিতা পাবার জন্য আমাদের আবার পূর্বের ন্যাচার লাইফ স্টাইলে ফিরে যেতে হবে । প্রচুর পানি পান করতে হবে । সবুজ শাকসবজি ও ফ্রেশ ফলমূল খেতে হবে । জাঙ্ক ফুড এভোয়েড করতে হবে । সুগার , চকলেট এভোয়েড করতে হবে এবং পর্যাপ্ত সাউন্ড স্লিপ ঘুমাতে হবে । এইসব প্রতিটি ধাপ গবেষণামূলকভাবে এসেছে । এইজন্য এগুলো সঠিকভাবে আমরা মেইনটেইন করবো । শুধু তাই নয় কসমেটিক্স ব্যবহারে আমরা খুব বেশি সচেতন হব । কমেড জেনিক ও নন-কমডেজেনিক খুব ভালো মানের ব্র্যান্ড কসমেটিক্স এর গায়ে কথাটি লেখা থাকে ।

নন কমেডে জনিক অর্থ ব্যবহারের ফলে আপনার ত্বকে ব্রণ হবে না । এই টাইপের দেখে আপনি ব্যবহার করবেন । মুখ পরিষ্কার করার জন্য ফেসওয়াশ বা সাবান ব্যবহার করবেন । মুখ পরিষ্কার রাখা খুব বেশি জরুরী । বাইরে গেলে ভালো সানস্ক্রিন ব্যবহার করবেন । কেননা সূর্যের আলোতে ব্রনের বেড়ে যাওয়ার একটি হিস্ট্রি থাকে এবং রেগুলার ভিত্তিতে লাইফস্টাইল মেন্টেন করবেন । ব্রণ হলে কখনো আপনি চুলকাবেন না বা খোট্রাবেন না । এর পরবর্তীতে যে গর্ত বা দাগ হয়ে যায় তা সারানো একটি সময় সাপেক্ষ ।

ব্রণের দাগ কেন হয়

 ব্রণের গর্ত দূর করার ঘরোয়া উপায় জেনে নিলে আপনি মুখে থাকা ব্রণের দাগ দূর করতে পারবেন খুব তাড়াতাড়ি। আপনার মুখে দাগ কিম্বা গর্ত গর্ত আছে। এটা যদি ভাবেন একা একাই গর্ত গুলো ঠিক হয়ে যাবে । তাহলে বলে রাখছি  , এই একটা দাগ পার্মানেন্টলি গর্ত হয়ে যাবে আপনার মুখের মধ্যে । শুধু দাগের কথা বলবো না ,আপনাকে বলে দেব একটি সাইন্টিফিক রুটিন , একটা লাইফ স্টাইল। এতে করে আপনার পার্মানেন্টলি দূর হয়ে যাবে মুখের দাগ ও মুখে থাকা ব্রণের গর্ত ।

ব্রণের-গর্ত-দূর-করার-ঘরোয়া-উপায়

ব্রনের দাগ কেন হয় বা গর্ত কেন হয় এটি সাইন্টিফিকালি বুঝতে হবে প্রথমে। মেলানিন নামক একটা হরমোন আছে যেটা আমাদের বডিতে তৈরি হয়। যখন আপনার মুখের ব্রণে আঙ্গুল দিয়ে চাপ দিচ্ছেন বা গলিয়ে ফেলছেন । তখন আমাদের বডি ক্ষত স্থানটি সারানোর জন্য মেলানিন তৈরি করে । আর এই মেলানিনের রং হচ্ছে কালো । আর এভাবেই ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে আপনার মুখে ব্রণের কালো দাগ। তাই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার প্রতি নজর রেখে লাইফ স্টাইল পরিবর্তন করুন।

ব্রণের গর্ত কেন হয়

ব্রণের গর্ত দূর করার ঘরোয়া উপায় জানা আপনার জন্য একজন সচেতন ব্যক্তি হিসেবে জরুরী । ব্রণ যখন আপনি আঙ্গুল দিয়ে গলিয়ে ফেলেন। তখন ভেতর থেকে ফেটে যায় । সেই সময় আপনার ত্বক এই গর্তটা কে রিপেয়ার করতে কোলাজেন নামক এক ধরনের হরমোন তৈরি করে থাকে । এই খোলা যেন বেসিকলি ব্রনের ওই ক্ষত স্থানটিকে রিপেয়ার করতে থাকে । কিন্তু দেখা যায় অনেক সময় পুরোপুরি ওই ক্ষতস্থানটি রিপেয়ার করতে পারেনা  । তখন রিপেয়ার না করতে পারা জায়গাটা আমাদের মুখে থেকে যায় স্কার্স বা গর্ত রূপে ।  

আরো পড়ুনঃ  কাঁচা হলুদ দিয়ে কিভাবে ফর্সা হওয়া যায় - গোপনীয়তা জানুন

এই গর্ত বা দাগ যেটা থেকে যায় এটাকে আমরা হাইপার পিগমেন্টেশন বলি । আর তাই একটা রুটিনের মধ্যে থেকে পার্মানেন্টলি তা দূর করা যাবে বলে আশা রাখি । যখন বাহির থেকে এসে আপনি নিয়মিত মুখ পরিষ্কার রেখে ঘরে তৈরি ফেসপ্যাক গুলো ব্যবহার করবেন ।  ভালো মানে একটি ফেসওয়াশ ব্যবহার করবেন সঙ্গে সঙ্গে রোদে বেরোনোর আগে বা বাসায় থাকলেও আপনি নিয়ম করে যদি একটি সানস্ক্রিন ব্যবহার করে তাহলেও অনেকটা দূর হবে বলে আশা রাখি ।

মুখে থাকা ব্রণের গর্ত দূর করুন

আমি আপনাকে একটা অস্থির রুটিন দিচ্ছি এটা নিয়মিত ফলো করলে আপনার তাড়াতাড়ি ব্রণের দাগ ও গর্ত দূর হয়ে যাবে। ব্রনের দাগ ও গর্ত দূর করতে আমাদের দুটো জিনিস লাগবে । প্রথমত আমাদের ভেতর থেকে যে ইনফেকশনগুলো আছে সেটাকে কমানো । আর দ্বিতীয়ত হচ্ছে বাইরে থেকে টেক কেয়ার করা । এই দুইটার কম্বিনেশন এখন আমরা করব । আপনাকে প্রথমে স্যালিসালিক আসিড যুক্ত একটা ফেসওয়াশ ব্যবহার করতে হবে । কারণ আপনার মুখে যে মৃত চামড়া আছে সেগুলো তুলে দেবে । তখন আস্তে আস্তে আপনার মুখে কালো কালো দাগটি চলে যাবে এবং মুখের উজ্জ্বলতা ফিরে আসবে ।

আরো পড়ুনঃ পুরুষদের জন্য অ্যালোভেরার উপকারিতা -  ও কার্যকারীতা জানুন

দ্বিতীয়ত হচ্ছে আপনাকে একটা টোনার ব্যবহার করতে হবে । এই টোনারের মধ্যে যেন গ্লাইকোলিক এসিড থাকে । এই টোনার আপনার মুখের ত্বককে  টানটান করবে । আর ওই যে কালো কালো দাগ আছে সেটাকে আস্তে আস্তে হালকা করে দেবে । সাথে যে স্কার্স আছে সেটাকেও আস্তে আস্তে হালকা করে দেবে । তৃতীয়ত হচ্ছে কোজিক এসিডের একটা ক্রিম ব্যবহার করতে হবে । এটি হচ্ছে কালো দাগের একটা শত্রু আপনি বলতে পারেন । এটা নিয়মিত ব্যবহারে মেলানিন কন্ট্রোল করবে । ভিটামিন সি যেটা আছে সেটা আপনার ত্বককে উজ্জ্বল করবে ।

ব্রণ মুক্ত ত্বকের জন্য ১০ টি সহজ টিপস

 ব্রণের গর্ত দূর করার ঘরোয়া উপায় জেনে নিতে হলে ব্রণ মুক্ত তাপের জন্য এই টিপসগুলো জানা আপনার অত্যন্ত প্রয়োজন । আমাদের অনেকেরই ত্বক তৈলাক্ত হয়ে থাকে। ব্রণ মুক্ত ত্বকের জন্য আমরা কি কি করতে পারি? এ বিষয় নিয়ে আলোচনা করব আপনাদের সঙ্গে। 

  • ত্বককে পরিষ্কার রাখা দিনের অন্তত দুইবার । সকালে ঘুম থেকে উঠার পর এবং ঘুমাতে যাওয়ার আগে মুখ ধোয়া ভালোভাবে ফেসওয়াশ দিয়ে । 
  • নো স্কার্বিং , নো পিকিং এগুলো করলে ত্বক রাফ হয়ে যায় । তবে ভালো মানের ফেসওয়াশ সপ্তাহে দুবার স্কার্বিং করা যাবে । এক্সফোলিয়েশন এর জন্য জন্য । মুখের ত্বকএ খোঁচাখুঁচি করলে ইরিটেশন বেশি হয় । ফলে ব্রণ হয়।
  • বেনজনিক অ্যাসিড , স্যালিসালিক অ্যাসিড গ্লাইক্লোলাসাইড এসিড যুক্ত ক্রিম ব্যবহার করতে পারি। হোয়াইট হেডস , ব্ল্যাকহেডস এসব কিছু রিমুভ করার জন্য । পোরসগুলোকেও ক্লিয়ার করে ফেলে। সাথে ব্রণ থেকে যে দাগ হচ্ছে তার সারাতে সাহায্য করে ।
  • ত্বক নিয়মিত পরিষ্কার করে ময়শ্চারাইজার ব্যবহার করবেন। এটি নন-কমডোজেনিক হতে হবে। এতে ত্বক শুষ্ক হবে না। এটি লোশন বা জেল  হতে পারে।
  • মেয়েদের ক্ষেত্রে তৈলাক্ত ত্বকে যত কম কসমেটিকস ব্যবহার হবে তত ভালো। কসমেটিক্স ব্যবহারের ফলেও ব্রণ দেখা দেয়। মেকআপ করলে একটা জেন্টেল ক্লিনজিং মিল্ক দিয়ে মেকআপ তুলে নিয়ে ভালো একটি ফেসওয়াশ ব্যবহার করতে পারেন । এর ফলে ত্বক পরিষ্কার থাকলে ব্রণ হওয়ার সম্ভাবনা কম হতে পারে ।
  • ব্রণ হওয়ার আরেকটি কারণ হলো রোদ। হার্মফুল ইউভি রশ্মি গুলো পৃথিবীতে আসছে এবং ত্বকের উপর পড়ে তা ক্ষতি করছে এবং বেশি বেশি তৈলাক্ত হয় । সেই ক্ষেত্রে সানব্লক ব্যবহার খুব প্রয়োজন। তবে এটি মেডিকেলের হলে খুব ভালো হয় ।
  • মুখ মোছার সময় আলতো করে মুখের পানি মুছে ফেলতে হবে । ঘষাঘষি করা যাবে না । এতে করে ত্বকের ক্ষতি হতে পারে।
  • ডায়েটের সাথে ব্রনের কিছুটা সম্পর্ক আছে। । মিষ্টি জাতীয় খাবার , চকলেট এগুলো এভোয়েড করবেন। যত এভোয়েড করবেন ততই ভালো। বেশি বেশি করে ফ্রুটস , ভেজিটেবল , ভিটামিন জাতীয় যে খাবারগুলো আছে সেই খাবারগুলো খেতে চেষ্টা করবেন । তৈলাক্ত খাবার , ফাস্টফুড অ্যাভয়েড করতে হবে ।
  • স্ট্রেস অনেক বড় কারণ ব্রণ হওয়ার জন্য । অনেকে রাত জেগে পড়াশোনা করে আবার বেশি বেশি অনিয়ন্ত্রিত জীবন যাপন করার ফলেও ব্রণ হয়ে থাকে । তাই স্ট্রেস ম্যানেজিং এর জন্য ইয়োগা , মেডিটেশন করা যেতে পারে ।
  • বাজারের হাবিজাবি ক্রিম , লোশন ব্যবহার থেকে দূরে থাকবেন । যা ফর্সা করতে গিয়ে চামড়াকে পাতলা করে দেয় ।

ব্রণের গর্তের চিকিৎসা

ব্রণের গর্ত দূর করার ঘরোয়া উপায় ।ব্রণ অনেকের ক্ষেত্রে দেখা যায় যে গর্তের সৃষ্টি করে না । বা কারো কারো ক্ষেত্রে দেখা যায় যে ব্রণ অনেক বড় হয় বা অনেক পেইন ফুল হয় । সেই ক্ষেত্রে একটা গর্তে সৃষ্টি হয়ে থাকে । তবে ব্রনের গর্তে বেশ কিছু চিকিৎসা এখন বর্তমানে আছে । ১০০% একেবারে গর্ত রিমুভ সম্ভব হয় না । সর্বোচ্চ ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ কমে আসে । সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করে ত্বকে টেক্সচারের উপর । গর্তের কতটা ডিপ আছে তার উপর । 
ব্রণের-গর্তের-চিকিৎসা

ত্বকের গর্ত রিমুভ করার জন্য যে চিকিৎসা করা যায় তা হল পিআরপি উইথ ডার্মালোরাল । এই চিকিৎসাটা অন্তত চার থেকে ছয় সপ্তাহ অন্তর অন্তর চিকিৎসক করে থাকেন । প্রায় ছয় থেকে সাতটা সেশন লাগে । এতে করে দেখা যায় যে ত্বক অনেকটা পূরণ হয়ে আসে । কারণ ত্বকের টিসুগুলো রি- জেনারেট করে । ব্লাড সার্কুলেশন বাড়ায় । আর একটি চিকিৎসা পদ্ধতি আছে সেটা হলো লেজার ট্রিটমেন্ট । এই ক্ষেত্রে সাধারণত সেকশনাল কার্বন-ডাই-অক্সাইড লেজার বলে । বেশ কয়েকটি সেশন করলে দেখা যায় যে তা উন্নতি হয়ে আসে ।

শেষ কথাঃ ব্রণের গর্ত দূর করার ঘরোয়া উপায়

ত্বকের জন্য সঠিকভাবে ময়শ্চারাইজার করা থাকলে ত্বক দ্রুত হিল হওয়া শুরু করবে । শুধু তাই নয় সানস্ক্রিম নিয়মিত বাইরে যাওয়ার সময় ব্যবহার করতে হবে । একটা ফেসপ্যাক সপ্তাহে অন্তত একদিন ব্যবহার করতে পারেন । পরিমাণ মতো ছানার পানি , দুই চামচ টমেটোর রস আর তিন চামচ বেসন । সব একসাথে মিক্সড করে আপনার সারা মুখে এপ্লাই করে ১৫ মিনিট রাখবেন এবং তারপরে তা ধুয়ে ফেলবেন । দেখবেন আপনার ত্বক ইনস্ট্যান্ট করবে বলে আশা রাখি ।

এতক্ষণ তো উপর থেকেই স্কিনের কাজ করলাম কিন্তু আপনাকে তার সঙ্গে ভেতর থেকেও করতে হবে ত্বককে উজ্জ্বল ও প্রাণবন্ত। আর তাই প্রথমে আপনি চার টুকরা পেঁপে নিবেন এক চিমটি হলুদ গুঁড়া নিবেন আর তিন থেকে চার চা চামচ টক দই এগুলো সব একসাথে মিক্সড  করে ব্লেন্ডার করে আপনি খাবেন সপ্তাহে দুইবার । এতে করে আপনার ভেতরে যে ইনফ্লামেশন সেটা কমে যাবে এবং আস্তে আস্তে আপনার ত্বক খুব দ্রুত হিল করা শুরু করবে ।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

আপনার মূল্যবান মতামত দেন। এখানে প্রতিটি মতামতের রিভিউ প্রদান করা হয়।

comment url