ঘরোয়া পদ্ধতিতে চুল পড়া বন্ধ করার উপায় - ও গোপনীয়তা
ঘরোয়া পদ্ধতিতে চুল পড়া বন্ধ করার উপায় । আমাদের মাথার স্ক্যাল্পে সাদা মরা চামড়া যদি বৃদ্ধি পায় তাকে আমরা খুশকি বলি। খুশকি কোন জটিল রোগ নয় । তবে খুশকি দীর্ঘদিন থাকলে চুল পড়তে থাকবে । অতিরিক্ত খুশকি হলে দেখা যায় যে ইচিং হতে শুরু করে ।
চুল পড়া এখন একটা সাধারণ সমস্যা । সঠিকভাবেই যত্ন নিলে চুল পড়া থেকে অনেকটা রেহাই পাওয়া যায়। কোনভাবেই দুশ্চিন্তা নেবেন না। যে কোন ভাবে যে কোন কারণ চুল পড়তে পারে। পর্যাপ্ত পরিমাণ প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার খেলে চুল পড়া রোধ এবং নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে।
পেজ সূচিপত্রঃ ঘরোয়া পদ্ধতিতে চুল পড়া বন্ধ করার উপায়
- ঘরোয়া পদ্ধতিতে চুল পড়া বন্ধ করার উপায়
- খুশকি হওয়ার প্রধান প্রধান কারণ
- চুল পড়ার অন্যতম কারণ খুশকি
- খুশকি ও চুল পড়া থেকে মুক্তি পেতে টিপস
- চুল পড়া ও খুশকি দূর করার শ্যাম্পু
- মাথার ত্বকে নতুন চুল গজানোর উপায়
- চুল গজানোর বৈজ্ঞানিক উপায়
- চুল পড়ার কারণ কী
- চুল পড়ার চিকিৎসা
- শেষ কথাঃ ঘরোয়া পদ্ধতিতে চুল পড়া বন্ধ করার উপায়
ঘরোয়া পদ্ধতিতে চুল পড়া বন্ধ করার উপায়
ঘরোয়া চিকিৎসার মধ্যে সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ এবং কার্যকরী চিকিৎসা হচ্ছে চুল পড়া ও খুশকি দূর করা এবং তা কিভাবে রোধ করা যায় তা আলোচনা করা হলো। যা আপনি নিয়ম মত করলে এবং সময় নিয়ে নিজেকে যত্নশীল করে তুললে অবশ্যই চুল পড়া ও খুশকি দূর করার থেকে আপনি উপকৃত পাবেন বলে আমি আশা রাখি । ডাক্তারি চিকিৎসা ছাড়াও আপনি পাশাপাশি ঘরোয়া ভাবে এই চিকিৎসা করতে যদি পারেন তাহলে খুব তাড়াতাড়ি লাভবান হবেন।
আপেল সিডার ভিনেগার। আপেল সিডার ভিনেগার ব্যবহার করলে মাথার ভেতর যে ব্যাকটেরিয়া এবং ফাংগাল সেগুলো মারতে সাহায্য করে । পাশাপাশি মাথায় স্কেলের পি এইচ লেভেল সেটা মেইনটেইন করতে সাহায্য করে । তিন চামচ আপেল সিডার ভিনেগার ও তিন চামচ পানি মিশিয়ে ১০ মিনিট স্কেলপে লাগিয়ে রাখবেন এবং ১০ মিনিট পরে তা ধুয়ে ফেলবেন । ঘৃতকুমারী বা অ্যালোভেরা একে এই দুই নামেই ডাকা হয় .। এলোভেরা মাথার খুশকি সারাতে খুব বেশি হেল্পফুল । অ্যালোভেরা জেল বের করার জন্য এলোভেরা ডাল থেকে জেলটি সংগ্রহ করে মাথার স্ক্যাল্পে ঘষে ঘষে লাগাবেন ।
এরপর ১০ থেকে ১৫ মিনিট লাগিয়ে রেখে চুল শ্যাম্পু করে ফেলতে হবে । সেই ক্ষেত্রে আপনার চুল ময়েশ্চারাইজার হবে। খুশকি একেবারে নিরাময় হয়ে যাবে । শুধু তাই নয় বেকিং সোডা খুশকি সারানোর জন্য খুব বেশি উপযোগী । বেকিং সোডা আমাদের মাথায় জমে থাকা ব্যাকটেরিয়া ও ফাঙ্গাস মারতে সাহায্য করে । ফ্ল্যাকি স্কিন বা মরা চামড়া খুব দ্রুত রোধ করতে পারে । এক গ্লাস পানিতে এক চামচ বেকিং সোডা মিশিয়ে মাথার চামড়ায় লাগাবেন এবং 5 মিনিট পর মাথা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলবেন । এটি মাসে একবার ব্যবহার করলে বেশ কার্যকরী । বেশি করলে চামড়া শুষ্ক হয়ে যেতে পারে ।
খুশকি হওয়ার প্রধান প্রধান কারণ
আপনি যদি খুশকির চিকিৎসা না করেন তাহলে দ্রুত চুল থেকে ভ্রু ও দাড়িতে চলে আসতে পারে । যার পরিপ্রেক্ষিতে খুশকির চিকিৎসাটা খুব জরুরী । শুধু তাই নয় মাথায় খুশকি হলে অবহেলা ও গুরুত্ব না দেওয়াটা এক ধরনের বোকামি । খুশকি হওয়ার প্রধান কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ আছে তার মধ্যে মাথার চামড়া যদি শুষ্ক থাকে তাহলে মাথায় খুশকি হবে । অনেকে দেখা যায় গরম পানিতে গোসল করে। এর ফলে মাথার চামড়া শুষ্ক হয়ে যায় । যার পরিপ্রেক্ষিতে খুশকি সম্ভাবনা বেড়ে যায়। মাথার চামড়া অতিরিক্ত তৈলাক্ত হলেও খুশকি হবে ।
আরো পড়ুনঃ ব্রণের গর্ত দূর করার ঘরোয়া উপায় - ও ১০টি সহজ টিপস
যারা অতিরিক্ত পরিমাণ তেল ব্যবহার করে তাদের খুশকি বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি । সেভিয়া নামক এক ধরনের রোগ আছে এতে মাথার চামড়ায় ফাঙ্গাল ইনফেকশন হলে সেক্ষেত্রে খুশকি হতে পারে । যারা অতিরিক্ত হেয়ার প্রোডাক্ট ব্যবহার করেন চুল বড় করার জন্য তাদেরও খুশকি হতে পারে । মাথায় খুশকি হলে যে কমন সিনড্রোম প্রাথমিক অবস্থায় মাথা চুলকাবে এবং চুলকানোর পরে হাতে সাদা সাদা এক ধরনের বস্তুর মত দেখতে পাবেন। সেটা মরা চামড়া বলা হয় । তবে এটি কোন জটিল রোগ না কিংবা ছোঁয়াচে না । তবে এটি হলে মাথার চুল পড়ে যাবে এটা থেকে আপনি অনেক বেশি হতাশা ও বিরক্ত বোধ করবেন ।
চুল পড়ার অন্যতম কারণ খুশকি
ঘরোয়া পদ্ধতিতে চুল পড়া বন্ধ করার উপায় জানতে হলে প্রথমে জেনে নিতে হবে চুল পড়ার কারণ গুলো। আর চুল পড়ার অন্যতম কারণ হয়ে থাকে খুশকি। চুল পড়ার অন্যতম কারণ এর ভিতর প্রথমেই দেখা যায় হরমোন জনিত পরিবর্তন , বার্ধক্য , ইমিউন সিস্টেমের পরিবর্তনের পাশাপাশি পরোক্ষভাবে খুশকি একটি প্রভাব চলে আসে । এতে করে দেখা যায় যে ত্বক ধীরে ধীরে শুষ্ক হতে থাকে এবং খুশকি আসে যার ফলে চুল ঝরতে শুরু করে। মাথার ত্বক শুষ্ক হয়ে যাওয়ার ফলে মাথার ত্বক বেশি চুলকাতে শুরু করে ।
ফলে চুলের গোড়া দুর্বল করে ফেলে ।আর খুশকি যদি মাথায় বেশিদিন থাকে এবং ত্বক শুষ্ক হয়ে চুলকাতে থাকে । তা দীর্ঘদিন থাকার ফলে চুলের বাড়ন্ত কমে যায় এবং চুল ঝরতে শুরু করে । মেলাসেজিয়া নামক একটি ছত্রাক আছে তা খুশকি হওয়ার সাথে সাথে সেটাও বাড়তে থাকে । ফলে ত্বকে অতিরিক্ত তেল জমা হতে থাকে এবং ত্বকের মধ্যে এলার্জি দেখা দেয় । এ থেকেও আপনার চুল ঝরা বাড়তে থাকবে । তাই সবকিছু থেকে বোঝা যায় যে চুল পড়ার অন্যতম এক কারণ হয়ে দাঁড়ায় খুশকি ।
খুশকি ও মাথা চুলকানো থেকে মুক্তি পেতে টিপস
ঘরোয়া পদ্ধতিতে চুল পড়া বন্ধ করার উপায় জেনে নিলে আপনি আপনার চলাফেরার জীবন ব্যবস্থায় হতে পারবেন অনেক প্রফুল্ল ময়। শীতের সময় সবচেয়ে বেশি সমস্যা যেটা হয় সেটা হচ্ছে চুলে খুশকি । খুশকি হচ্ছে সবচেয়ে মারাত্মক একটা সমস্যা যেটা শীতকালে বেশি দেখা দেয় । নারী-পুরুষ , ছোট বড় সবাই খুশকি সমস্যায় ভুগেন । এ প্রথম ও প্রধান কারণ হচ্ছে আবহাওয়া । তখন স্কিন শুরু হয়ে যায় শুষ্ক রুক্ষ। আর মাথার ত্বক হয়ে যায় শুষ্ক রুক্ষ হয়ে যাওয়ার কারণে ফ্লেটিনেসটা চলে আসে ।
আরো পড়ুনঃ চুলের যত্নে কালোকেশী ব্যবহার - টিপস ও ট্রিকস সহ
অর্থাৎ খুশকির প্রভাব বেড়ে যায় । খুশকি জন্য অন্যতম ও প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়ায় চুল পড়া । খুশকি ও মাথা চুলকানো থেকে মুক্তি পেতে যে টিপস গুলো আছে তার মধ্যে হলঃ
- নিয়মিত চুল আঁচড়াতে হবে এতে করে রক্ত সঞ্চালন মাথার তালুতে বৃদ্ধি পাবে ।
-
চুল পড়া রোধ করতে মাথার ত্বক পরিষ্কার রাখুন । নিয়মিত পরিষ্কার রাখার কোন
বিকল্প নেই ।
- পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি খেতে হবে । অনেক সময় ডিহাইড্রেশনের কারণে ত্বক রুক্ষ শুষ্ক হয়ে যায় । ফলে শুষ্কতার কারণে খুশকি দেখা দেয় ।
- অনেকে তাড়াতাড়ি চুল শুকানোর জন্য হেয়ার ড্রাই ব্যবহার করেন । অনেকে কারলিং হেয়ারিং করে থাকেন। ফলে খুশকি শুরু হয় এই হিটিং প্রসেস থেকে।
- শীতকালে তোয়ালে এভয়েড করেন । কারণ তোয়ালে পানি অতিরিক্ত শুষে নেওয়ার জন্য চুলকে অনেক সময় ড্রাই করে ফেলতে পারে । সবচেয়ে ভালো হচ্ছে শীতকালে পুরানো জামা দিয়ে চুল মুছতে পারেন । এটা আপনার চুলের জন্য ভীষণ ভালো একটা প্র্যাকটিস ।
- খাবারের পরিবর্তনের মাধ্যমে খুশকি কমিয়ে আনতে পারেন । ভিটামিন বি , জিংক , ওমেগা থ্রি এই জিনিসগুলো আমাদের চুলের জন্য খুব ভালো । পালং শাক , ডিম , মাছ , কলা এই ধরনের খাবারগুলোতে পর্যাপ্ত পরিমাণ নিউট্রিশিয়ান থাকে । এগুলো আপনার চুলের জন্য খুব ভালো কাজ করে থাকে ।
চুল পড়া ও খুশকি দূর করার শ্যাম্পু
খাবার তালিকা পরিবর্তনের সাথে সাথে আপনার চুলের যত্নে প্রোডাক্ট পরিবর্তনের সময়
হচ্ছে শীতকাল । কারণ কারো কারো ক্ষেত্রে খুশকির প্রকট এত বেশি বেড়ে যায় তখন
উপরোক্ত টিপস ফলো করেও দেখা যায় তেমন ফলাফল আসে না । আর তাই উপরোক্ত
টিপসগুলোর সাথে সাথে চুলের যত্নে চুল পরিষ্কার রাখার প্রোডাক্ট , বিশেষ করে যাদের
শীতকালে খুশকি প্রবণতা বেশি বেড়ে যায় । তারা চাইলে মেডিকেটেড শ্যাম্পু ব্যবহার
করতে পারেন ।
নিউট্রিজিনা খুবই সুন্দর একটা থেরাপি শ্যাম্পু আছে । NEUTROGENA T/Gel THERAPEUTIC SHAMPOO এই টি ডারমোলজিস্ট রিকমেন্ডেড মেডিকেটেড শ্যাম্পু । রেগুলার ব্যবহারের জন্য না । এটি স্পেশালি চুলকানো খুশকি ও খুশকির জন্য ক্ষত এই সকল জায়গা একসাথে এই শ্যাম্পু সব সমস্যা সমাধান করে থাকে । আর তাই সে সকল ব্যক্তি এই শ্যাম্পু ব্যবহার করতে পারেন । ১২ বছরের নিচে কোন বাচ্চারা এটা ব্যবহার করতে পারবে না।
১২ বছর থেকে যেকোনো বয়সের মানুষ যাদের এই ধরনের সমস্যা আছে তারা এই শ্যাম্পু ব্যবহার করতে পারেন। দুই থেকে তিন দিন ব্যবহার করতে হয় । প্রতিদিন এই শ্যাম্পুটে ব্যবহার করা যায় না । অন্যান্য দিন সাধারণ শ্যাম্পু ব্যবহার করলেই হবে । ছয় সপ্তাহ ব্যবহার করার পরে আপনি ভালো একটা রেজাল্ট পেয়ে যাবেন বলে আশা রাখি । তবে একটি ব্যবহার করার ফলে আপনি আবার আরেকটি শ্যাম্পুর প্যাকেট পার্সেস করেন না । কারণ মেডিকেটেড শ্যাম্পু হওয়ার ফলে এটি কিছুদিন গ্যাপ দিয়ে আপনাকে আবার ব্যবহার করতে হবে ।
মাথার ত্বকে নতুন চুল গজানোর উপায়
ঘরোয়া পদ্ধতিতে চুল পড়া বন্ধ করার উপায় আপনার জানা থাকলে আপনার জীবন ব্যবস্থায় অনেক পরিবর্তন আসবে । নতুন চুল গজানোর ক্ষেত্রে কার্যকরী উপাদান হলো মেথি । প্রথমে দুই চামচ মেথি নিয়ে তা ভিজিয়ে রাখুন । সকালে উঠে তা ব্লেন্ড করে নিন । এরপর তা সরাসরি মাথার ত্বকে ও চুলে ব্যবহার করুন । শুকিয়ে না যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন এরপর শ্যাম্পু করে তা ধুয়ে নিন । এভাবে সপ্তাহে একবার ব্যবহার করলে নতুন চুল গজানোর শুরু হবে ।
মেথি ব্যবহারের পাশাপাশি আরও বেশি তাড়াতাড়ি ফলাফল পেতে চাইলে আপনি কালোজিরা
মিশিয়ে নিতে পারেন । এছাড়াও কালোজিরা গুড়া করে তা বিভিন্ন তেলের সাথে মিশিয়ে
চুলে লাগালে উপকার মিলবে । পেঁয়াজের ঝাঁঝালো গন্ধ আপনার কাছে ভালো নাই বা লাগতে
পারে । তবে এটি আপনার চুলের জন্য বেশ উপকারী । পেঁয়াজের রস নিয়মিত ভাবে ব্যবহার
করলে চুল পড়া রোধ এবং নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে । এটি তৈরি করার জন্য
ব্লেন্ডারের ব্লেন্ড করে ছেকে নিয়ে রসটুকু ব্যবহার করুন মাথার ত্বকে ।
নিম পাতা ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা সারাতে কাজ করে । নিম পাতা শুধু ত্বকে নয় এটি
চুলের যত্নেও সমান কার্যকরী । নিমপাতা পানিতে ফুটিয়ে নিয়ে ছেকে ঠান্ডা করে তার
সংরক্ষণ করে রাখতে পারেন। যখন আপনার চুল শ্যাম্পু করবে তখন নিমের এই পানি দিয়ে
চুল ধুয়ে নিন। এতে করে আপনার চুল ব্যাকটেরিয়া ও ফাঙ্গাস মুক্ত থাকবে ।
লেবু রস ভিটামিন সি থাকায় এটি ত্বকের জন্য বেশ উপকারী । তাই পেঁয়াজের সাথে আপনি
লেবুর রস ব্যবহার করতে পারেন ।
চুল গজানোর বৈজ্ঞানিক উপায়
চুল পড়া কমানোর জন্য এই বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে তৈরি থাকুন । তাহলে চলুন শুরু করা
যায় কিভাবে এটা সম্ভব? প্রতিদিন চার থেকে পাঁচ মিনিট আঙ্গুলের তালু দিয়ে মাথার
ত্বক মেসেজ করলে দেখা যাবে ধীরে ধীরে চুল পড়া বন্ধ হবে । ২৪ সপ্তাহ পর আপনি
দেখতে পাবেন আপনার চুল আরও ঘন ও মজবুত হয়ে গিয়েছে । তবে কাজটি করতে হবে একই
সময়ে একই পদ্ধতিতে মেসেজ । মেসেজটি হতে হবে বিজ্ঞানসম্মত । আঙ্গুলের মাথা দিয়ে
স্কেলপে গোল করে ঘোরানো ।
আরো পড়ুনঃ কাঁচা হলুদ দিয়ে কিভাবে ফর্সা হওয়া যায় - গোপনীয়তা জানুন
মেসেজ করলে মাথার চামড়া তে রক্ত চলাচল বাড়ায় আর সে রক্ত চলাচলে রক্ত নিয়ে আসে
অক্সিজেন ও পুষ্টি । যা চুলের গোড়ার জন্য অত্যন্ত দরকারি । এই আঙ্গুলের চাপে
মাথার কোষগুলোকে জাগিয়ে তোলে । এই প্রক্রিয়াকে বলে মেকানো ট্রান্স ডাকসন । কে
চুল গজানো সিগন্যাল দেয় । মেসেজের সময় ব্যবহার করতে পারেন রোজ ম্যারি , নারকেল
তেল , ক্যাস্টর অয়েল কিংবা অলিভ অয়েল । চলুন শেষ করার আগে দেখি মেসেজের ফলে কি
ধরনের ফলাফল আসতে পারে ।
নিয়মিত মেসেজের মাধ্যমে আপনি যা আশা করতে পারেন , তাহলোঃ
- চুল হবে মোটা ও ঘন
- চুল পড়া হবে কম
- নিষ্ক্রিয় ফলিকলগুলো হতে পারে সক্রিয়
- স্ক্যাল্প হবে পরিষ্কার ও হেলদি
যার নতুন চুল গজানোর উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করে । তবে এটি ম্যাজিক নয় । ফলাফল পেতে
হবে ৮ থেকে ১২ সপ্তাহ সময় নিয়ে । তবুও এই পদ্ধতি সাশ্রয়ী , প্রাকৃতিক এবং
গবেষণায় প্রমাণিত ।
চুল পড়ার কারণ কী
ঘরোয়া পদ্ধতিতে চুল পড়া বন্ধ করার উপায় জেনে নিয়ে জীবন অতিবাহিত করলে আপনি
থাকবেন প্রাণবন্ত উচ্ছ্বাস ও দীপ্তমান । বয়স বাড়ার সাথে সাথে ও চুল পড়া শুরু
হয়ে থাকে । শুধু তাই নয় জেনেটিক্স কারণে ও চুল পড়া হতে পারে । চুল পড়ার
প্রকৃত কারণ জানলে এবং তার উপর নির্ভর করে একটা সুনির্দিষ্ট চিকিৎসা পদ্ধতি বের
করে চিকিৎসা পাওয়া যেতে পারে। আর তাই চুল পড়ার সমস্যা বোঝার আগে প্রথমেই জেনে
নিতে হবে যে আপনার চুল কেন পড়ে? যা নিম্নে আলোচনা করা হলোঃ
- জেনেটিক সমস্যাঃ অনেকের বংশগত কারণে চুল অল্প বয়সে পড়ে থাকে এবং চুল পাতলা হয়ে তা মাথার তালু পর্যন্ত দেখা দেয় ।
- অপরিষ্কার মাথার তালুঃ চুল ও মাথার ত্ব ক সঠিকভাবে পরিষ্কার করতে না পারলে ফাঙ্গাস জমে খুশকির জন্ম নেয় এবং তা থেকে চুল পড়া শুরু হয় ।
- মানসিক চাপঃ আপনার মানসিক চাপ দীর্ঘমেয়াদী হয়ে থাকলে চুল পড়ার সমস্যা বেড়ে যেতে পারে ।
- হরমোনের ভারসাম্যহীনতাঃ থাইরয়েডের সমস্যা থাকলে কিংবা গর্ভধারণ বা মেনোপজ এর সময় হরমোন পরিবর্তন হলে চুল পড়ার সমস্যা দেখা যায় ।
- পুষ্টির ঘাটতিঃ ভিটামিনB12 , আইরন জিংক্ , প্রোটিন বায়োটিনের অভাবে চুল দুর্বল হয়ে পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে ।
- কেমিক্যাল ব্যবহারঃ হেয়ার কালার , হিট স্টাইলিং , ব্লিচ ,স্ট্রেটেনার এসব করলেও চুলের ত্বকে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে চুলের স্বাভাবিক গঠন নষ্ট করে চুল ঝরে যাবার সম্ভাবনা থাকে ।
চুল পড়ার চিকিৎসা
ঘরোয়া পদ্ধতিতে চুল পড়া বন্ধ করার উপায় জেনে চুল পড়ার চিকিৎসা করুন খুব সহজে । একজন সচেতন ব্যক্তি হিসেবে চুল পড়া সমস্যা নিয়ে এই সময় ভাবাটা একেবারেই স্বাভাবিক । আর তাই চুল যখন পড়তে শুরু করে , তা মোকাবেলা করার জন্য সবাই আমরা প্রাকৃতিকভাবে চুল পড়া বন্ধ করার উপায় গুলো খুঁজে বের করতে আগ্রহী হয়ে থাকি। চুল পড়া বন্ধ করার জন্য নানা ধরনের চিকিৎসা আছে । পুরুষ এবং মহিলাদের চুল পড়ার কারণ একই ।
তবে চুল পড়ার ধরন এবং কারণ এর উপর নির্ভর করেও যে চিকিৎসা পদ্ধতিগুলো আছে তা আমরা প্রয়োগ করতে পারি । পুরুষদের চুল পড়ে গেলে মাথায় টাক দেখা যায় কিন্তু মেয়েদের সেভাবে টাক আসে না সে ক্ষেত্রে চিকিৎসাটা একটু আলাদা হয়ে থাকে । তবে চুল পড়া নিয়ন্ত্রণের জন্য কিছু সাধারণ উপায় গুলো নিম্নে আলোচনা করা হলোঃ
- স্বাস্থ্যকর চুল পেতে হলে চুলের যত্নে একটা রুটিন তৈরি করুন
- হিটিং এবং রাসায়নিক এক্সপোজার কমিয়ে ফেলুন
- ভিটামিন সি জাতীয় খাবার খান এবং সাপ্লিমেন্টারি হিসেবে ভিটামিন সি খেতে পারেন
- সিআরপি থেরাপি এবং লেজার চিকিৎসা করলে চুলের ফলিকল গুলোকে আবার উদ্দীপিত করা যেতে পারে ।
- পুষ্টির ঘাটতি দূর করে আপনি আপনার জীবন যাত্রার পরিবর্তনগুলো ধীরে ধীরে গ্রহণ করতে পারেন এবং ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী আপনি সম্পূরক খাবার গ্রহণ করতে পারেন ।
- মানসিক চাপ দূরে রেখে নিজেকে প্রফুল্লময় করে তুলুন ।
শেষ কথাঃ ঘরোয়া পদ্ধতিতে চুল পড়া বন্ধ করার উপায়
আপনি কি জানেন প্রতিদিনের ৪ মিনিট স্কেল্প মেসেজ নতুন চুল গজানো শুরু করতে পারে । সবকিছু ট্রাই করেছেন কিন্তু চুল পড়া বন্ধ হচ্ছে না । তেল , মাস্ক , ঔষধ কোনটাই কাজ হচ্ছে না । তখনই বিজ্ঞান বলছে সমাধান হয়তো লুকিয়ে আছে আপনারই আঙ্গুলে । মাত্র কয়েক মিনিটে সঠিক স্ক্যাল্প মেসেজে স্টিমুলেট করতে পারে আপনার হেয়ার ফলিকল । আর সেখান থেকে শুরু নতুন চুলের যাত্রা । এভাবেও আপনি আপনার ঘরোয়া পদ্ধতিতে চুল পড়া বন্ধ করতে পারেন ।
তবে চুলে নিয়মিত পরিষ্কার মাথার তালুতে পেঁয়াজের রস , লেবু পানি , আমলকির রস
, মেথি বাটা , কালোজিরা এর তেল নিয়ম করে কাল্পে ঘুষতে পারলে আপনার চুল হবে
স্বাস্থ্যজ্জল , প্রাণবন্ত ও মজবুত। শুধু তাই নয় পাশাপাশি সতেজ টাটকা মেহেদি
পাতার বেটে তার রস , জবা ফুল ও জবা পাতার রস একসঙ্গে নিয়ে টক দইয়ের সঙ্গে
ফেটিয়ে মাথার তালুতে লাগালে সেটিও আপনার চুল পড়া বন্ধ করতে সাহায্য করবে এবং
চুল গজাতে সাহায্য করে থাকবে ।

.webp)
.webp)
আপনার মূল্যবান মতামত দেন। এখানে প্রতিটি মতামতের রিভিউ প্রদান করা হয়।
comment url