জবা ফুলের উপকারিতা - জবা পাতার উপকারিতা

 জবা ফুলের উপকারিতা। আজকের এই আর্টিকেলটিতে জবা ফুলের এমন কিছু অ্যামেজিং হেলথ বেনিফিটস আপনাদের সাথে শেয়ার করতে চলেছি। যা জানার পরে এই ফুলটি আপনি মেডিসিন হিসেবে ব্যবহার করতে পারবেন । আপনি ছোট বড় রোগ থেকে দূরে থাকতে পারবেন।

জবা-ফুলের-উপকারিতা

জবা ফুলে হেলথ টিপস গুলো জানার পর আপনি আপনার ডেলি লাইফে ইনক্লুড করে ছোট বড় বিভিন্ন প্রকার রোগ থেকে দূরে থাকতে পারবেন । জবা ফুল সত্যিকারের এক ঔষধি গাছ। চলুন আর্টিকেলটি খুব মনোযোগ সহকারে শেষ পর্যন্ত পড়ুন ও সঙ্গে থাকুন।

পেজ সূচিপত্রঃ জবা ফুলের উপকারিতা

জবা ফুলের উপকারিতা  

জবা ফুল আমাদের রূপচর্চাতে অনেক কাজে লাগে। এই ফুল চুলকে লম্বা ঘন ও কালো করতে সাহায্য করে। শুধু তাই নয়, জবাফুল চুল কন্ডিশনিং করতে সাহায্য করে। আবার জবা ফুল সমান ভাবে ত্বকের জন্য ভালো। জবা ফুলে আছে অ্যান্টি রিংকেল প্রপার্টি । যা তোকে ইলাস্ট্রিসিটি বাড়িয়ে তক টানটান করতে সাহায্য করে । এতে থাকা সাইট্রিক ও মেলিক এসিড ত্বকের পিগমেন্ট কমিয়ে ত্বককে আরও বেশি ফর্সা ও উজ্জ্বল করে তোলে । তাই জবা ফুল ত্বকের ট্যান , পিগমেন্টেশন , ফ্রিকেলস বা অন্যান্য দাগ থেকেও ত্বককে রক্ষা করে। 

জবা ফুলের সবথেকে বড় গুণ হলো ত্বকের মৃত কোষ সরিয়ে নতুন কোষের জন্ম দেয়। শুধু তাই নয় জবা ফুলের কুঁড়ে অবস্থায় থাকা সাধারণত যাদের হরমোনের সমস্যা আছে , পিঠে ব্যথা বা শরীরে ব্যথা আছে, কোষ্ঠকাঠিন্য হয় । সে সব ক্ষেত্রে জবা ফুলের কলিটাকে কুচিকুচি করে পানিতে ভিজিয়ে সারারাত রাখলে সকালে মিউকাসের মতো থকথকে বার্লির মত যে শরবতটি হয় । তা সেবন করলে আশা করি আপনি এই সমস্যাগুলো থেকে মুক্তি পাবেন । তবে কাঙ্খিত ফলাফল পেতে ফুল প্রস্ফুটনের আগেই কলি অবস্থায় তা নিতে হবে ।

জবা পাতার উপকারিতা

আজ আমরা জেনে নেব জবা পাতার ঔষধি গুণ । জবা ফুলের সাথে পাতাও কিন্তু সমান উপকারী। জবা ফুলের পাতা পানিতে ফুটিয়ে নিয়ে তার সংরক্ষণ করে টোনার হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন । যাদের ত্বক তৈলাক্ত , ব্রণ ও একনি রয়েছে তাদের জন্য জবা ফুলের পাতা সেদ্ধ করা পানি ভীষণ কার্যকারী ক্ষমতা রাখে । জবা ফুলের পাতা মুখে ঘা হলে তিন থেকে চারটি জবা ফুলের পাতা ৩০ থেকে ৪০ বার চিবিয়ে মুখ থেকে ফেলে দিতে হবে ।

আরো পড়ুনঃ  ঘরোয়া পদ্ধতিতে চুল পড়া বন্ধ করার উপায় - ও গোপনীয়তা 

জবা ফুলের পাতা এইভাবে নিয়ম করে সপ্তাহখানেক চিবিয়ে ফেলে দেওয়ার প্র্যাকটিস করলে মুখের ঘা থেকে আমরা আরোগ্য পেতে পারি । মাথার চুল উঠে যাচ্ছে বা পড়ে যায় তাহলে ৮ থেকে ১০ টি জবা ফুলের কোমল পাতা এবং চার থেকে পাঁচটি জবা ফুল ১০০ গ্রাম নারকেল তেলে ফুটিয়ে নি্ন। জবা ফুলের পাতা ও ফুল কালো হয়ে গেলে তা ঠান্ডা হলে ছেকে নিয়ে তা সংরক্ষণ করেন। প্রতিদিন এই তেল মাথার তালুতে ঘষে ঘষে লাগালে অনেক দ্রুত মাথার চুল পড়া বন্ধ হয়ে যাবে।

জবা ফুল ও পাতা শরীরের জন্য কতটা উপকারী

জবা ফুলের উপকারিতা ও জবা পাতার উপকারিতা অনেক বেশি। আপনি খুব সহজেই হাতের কাছে একেবারে বিনা খরচে শরীরের উপকারিতা পেয়ে যাবেন। চিকিৎসা পদ্ধতিতে জবা ফুলের ব্যবহার ও জবা ফুলের পাতার ব্যবহার সেই বৈদিক যুগ থেকে চলে আসছে । আর আজকাল মডার্ন সাইন্স ও এটা প্রমাণ করে দিয়েছেন । যে এর মধ্যে এত পরিমান মেডিসিনাল প্রপার্টি রয়েছে । এত পরিমাণে নিউক্লিয়াস রয়েছে । যেগুলো আপনার সার্বিক শরীরের জন্য উপকারী । 

জবা ফুল ও পাতা যেগুলি আপনার শরীরের প্রত্যেকটি অর্গানকে প্রটেক্ট রাখতে সাহায্য করে । প্রত্যেকটি অর্গানকে আরো বেশি বেটার করতে সাহায্য করে । আপনার শরীরের ইমিউনিটি পাওয়ার কে বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে ।  এর পাতায় ঔষধি গুন আছে। এর ফুলে ঔষধি গুণ আছে । ডিম্বাশয় এ ঔষধি গুন আছে । আরেকটি হলো জবা গাছের যে বাকল বা ছাল আছে তা ভিজিয়ে খেলে শরীরের প্রস্রাব জনিত সমস্যাগুলো দূর হয়ে থাকে।

জবা ফুল ও পাতার ঔষধি ব্যবহার

জবা ফুলের উপকারিতা জানার পাশাপাশি এর পাতার গুনাগুন জানলে আপনি অবাক হবেন । যা হাতের কাছে এবং সহজলভ্য ভাবে আপনাকে সুস্থ রাখার জন্য এক উপাদান । জবা গাছের আগার চামড়া তা ভিজিয়ে খেলে যাদের প্রস্রাব ধীরে ধীরে ও ফোটায় ফোটায় আসে। এই সমস্যা থেকে নিষ্কৃতি পাবেন বলে আশা রাখি। এটি সাধারণত বয়স্ক ব্যক্তিদের মধ্যে দেখা দেয়। তার নিয়ম করে খেতে পারলে আপনি খুব তাড়াতাড়ি এই সমস্যা থেকে নিষ্কৃতি পেতে পারেন।

আরো পড়ুনঃ  ব্রণের গর্ত দূর করার ঘরোয়া উপায় - ও ১০টি সহজ টিপস

 শুধু তাই নয় যাদের প্রস্রাব মাঝে মাঝেই হলুদ রঙের দেখা দেয় । তাদের জন্য জবার ছাল ভিজিয়ে রেখে তা পেস্ট করে নিয়ে পানিতে গুলে খেতে পারলে অনেক উপকার পাওয়া যায়। জবা ফুল বিভিন্ন রোগের প্রতিরোধক হিসেবেও দারুণ কাজ করে। গবেষণায় দেখা গেছে জবা ফুলের চা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে অসাধারণ কাজ করে। জবা ফুলে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট লিভারের জন্য খুবই উপকারী। জবা ফুলের নির্যাস মেটাবলিজম বৃদ্ধি করে এবং ওজন কমাতে সাহায্য করে।

স্বাস্থ্য গুণে পরিপূর্ণ জবাফুল

জবা ফুলের উপকারিতা জানলে আপনি নিজেই অবাক হয়ে যাবেন । আপনি যদি হাই ব্লাড প্রেসার এর পেসেন্ট হয়ে থাকেন । তাহলে সেই ক্ষেত্রে এই জবা ফুল আপনার ব্লাড প্রেসার কে কন্ট্রোল করতে সাহায্য করতে পারে । বিজ্ঞানী মহলের দাবি যদি আপনি সঠিক পদ্ধতিতে জবা ফুল ব্যবহার করতে পারেন। আপনার সিস্টেলিক প্রেসার এবং ডায়াস্টলিক প্রেসার কিন্তু কম হয়ে যাবে। তার কারণ জবা ফুলের মধ্যে ডেলফিনিডিন - 3-শাম্বু বায়োসাইড নামক এবং সায়ানিডিন - 3- শাম্বুবায়ো সাইড নামক এমন বিশেষ দুই ধরনের ফ্ল্যাবোনাইডস রয়েছে ।

জবা-ফুলের-উপকারিতা

যেগুলি আমাদের রক্ত চলাচলের আর্টারী বা ব্লাড হেলসেল গুলি প্রসারিত করে রাখতে পারে । সেগুলো যখন প্রসারিত অবস্থায় থাকবে । রক্ত চলাচল সঠিকভাবে হতে পারে এবং আমাদের ব্লাড প্রেসারও কিন্তু নিয়ন্ত্রণে থাকে । জবা ফুলের মধ্যে অন্থোসায়ানিন নামক বিশেষ এক ধরনের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে। যা আমাদের রক্তের এইচডিএল বা ভাল রক্তের কোলেস্টেরলকে বৃদ্ধি করে । এল ডি এল বা খারাপ কোলেস্টেরল এবং ট্রাই গ্লিসারাইড এর মাত্রা ধীরে ধীরে কমে আসে । জবা ফুল হলো ডাই নিরোটিক ন্যাচার। 

জবা ফুলের ব্যবহার

জবা ফুলের উপকারিতা জেনে আপনি হন উপকৃত । জবা ফুল ভালো করে পেস্ট করে নিবেন এবং তা মুখে লাগাবেন । ১৫ মিনিট থেকে ২০ মিনিট তা রেখে দিয়ে ধুয়ে ফেলুন । এতে করে ময়শ্চারাইজারের কাজ করবে । আর আপনার স্কিনকে টানটান করতে সাহায্য করবে । জবা ফুলের শুধু বৃন্ত সংগ্রহ করে থেঁতো করে নিয়ে যেখানে যেখানে ব্রণ আছে তা লাগিয়ে নিন । দেখবেন খুব তাড়াতাড়ি ব্রণগুলো সেরে উঠবে । জবা ফুল আপনার বাড়ির আশেপাশেই থেকে থাকে । 

সেই ক্ষেত্রে জবা ফুলকে সংগ্রহ করে ভালোভাবে রোদ্রে শুকিয়ে নিয়ে এয়ার টাইট কন্টেইনারে মাধ্যমে আপনি স্টোর করে রেখে দেন । সেই শুকনো জবা ফুলের পাপড়ি প্রতিদিন এক চামচ করে নিয়ে এক মগ পানিতে তিন থেকে চার মিনিট খুব ভালো করে ফুটিয়ে নিয়ে, সেটিকে চায়ের মত করে খান । আর আপনি যদি জবা ফুল কালেক্ট করতে না পারেন । তাহলে আজকাল হেবিস্কাস টি আপনি কিনে তা ব্যবহার করতে পারেন ।

আরো পড়ুনঃ  চুলের যত্নে কালোকেশী ব্যবহার - টিপস ও ট্রিকস সহ

 যে কোন রেপুটেড কোম্পানির এই হেবিসকাস টি কিনে নিয়ে একইভাবে চায়ের মত করে বানিয়ে আপনি খেতে পারেন। আপনি এটি সারাদিনে দুই থেকে তিন কাপ পর্যন্ত চায়ের মত করে খেতে পারেন এবং দীর্ঘদিন পর্যন্ত যদি আপনি খান  কোনরকম পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া আসবেনা। তবে হেবিসকাস টি খাওয়ার আগে লো ব্লাড প্রেসার এর মত সমস্যা থাকলে আপনার খাওয়া যাবে না । এছাড়া গর্ভবতী মহিলা হয়ে থাকলে সে ক্ষেত্রে কিন্তু জবা ফুলের চা না খাওয়াই ভালো ।

জবা ফুলের উপকারী টিপস

জবা ফুলের উপকারিতা জানা থাকলে আপনি জবা ফুলের গুনাগুন জেনে নিতে পারবেন খুব সহজে। বাড়ির আশেপাশেই দেখা যায় জবা ফুলের গাছ। এই ফুলের গুনাগুন বলে শেষ করা যাবে না । সহজেই জবা ফুল থেকে আমরা যে উপকার গুলো পেয়ে থাকি তা নিম্নে আলোচনা করা হলো।

  • ঋতুস্রাবের সমস্যায়ঃ অনিয়মিত ঋতুস্রাবের সমস্যায় পঞ্চমুখী জবা ফুলের কুঁড়ি এবং অল্প দারুচিনি একসঙ্গে বেটে এক গ্লাস পানিতে মিশিয়ে ঋতুস্রাবের সময় তিন থেকে চার দিন দিনে একবার করে খাবেন। উপকার পাবেন ।
  • ফাঙ্গাসজনিত সমস্যায়ঃ ভাঙ্গারজনিত সমস্যায় চুল উঠে গেলে জবা ফুল বেটে ওই জায়গায় কিছুদিন লাগান। যতটা বেশি সময় রাখা যায় রাখুন । কয়েক মাসের মধ্যে দেখতে পাবেন সেখান থেকে চুল গজাবে।
  • হাতে চামড়া উঠলেঃ হাতের তালুতে চামড়া উঠলে জবা ফুল তালুতে মাখন উপকার পাবেন। দিনে দুই থেকে তিনবার এক থেকে দুটো ফুল হাতের মধ্যে ঘষে ঘষে লাগাতে হবে ।
  • মূত্রনালীর সংক্রমণঃ জবা ফুলের পুষ্টি উপাদান মূত্রনালীর ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া দূর করে। সংক্রমণ থেকে মুক্তি দেয় । জবা ফুলের চা ফ্ল্যাভনয়েড থাকে যা ইকোলাই ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধিকে প্রতিরোধ করে।
  • ব্যথা কমাতেঃ শরীরের ব্যথা কমাতে পারে জবা ফুল । এর জন্য পাঁচটি লাল জবা ফুলের পাপড়ি ও জবা পাতা পানিতে ভালো করে ফুটিয়ে নিয়ে ঠান্ডা করে তা পান করুন । বেশ কিছুদিন এভাবে করুন ।
  • বলিরেখা দূর করতেঃ মুখের বলিরেখা দূর করতে লাল জবার পাপড়ি রোদে শুকিয়ে গুড়ো করে প্রতিদিন দুধ বা কমলার রসের সাথে মিশিয়ে মুখে লাগান।
  • টক্সিন দূর করতেঃ সপ্তাহে দুই থেকে তিন দিন ছয়টি জবা ফুলের পাপড়ি পেস্ট করে তার সঙ্গে চালের গুঁড়ো এবং পানি মিশিয়ে ১০ থেকে ১৫ মিনিট ত্বকে মেসেজ করুন । এই প্যাকটি ত্বকের টক্সিন ও অতিরিক্ত তেল থেকে মুক্তি দেয়।
  • চুলের সমস্যায়ঃ জবা ফুল আর কারি পাতা নারকেল তেলের সঙ্গে মিশিয়ে ভালো করে ফুটিয়ে রাখুন । এই তেল নিয়মিত ব্যবহার করুন । এতে চুল পড়া কমে, নতুন চুল গজাবে এবং ঘন হবে ।
  • চুলের আগা ফেটে গেলেঃ নারকেল তেলে দুটি জবা ফুল গরম করুন। ফোটাবেন না । এই তেল নিয়মিত চুলের আগায় ব্যবহার করলে চুলের ডগা ফেটে যাওয়া থেকে মুক্তি পাবেন ।
  • স্ক্যাল্পের চুলকানিতে ঃ জবা ফুলে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ এবং সি যা স্ক্যাল্পের চুলকানি কমায়। এর জন্য অল্প পানিতে জবা ফুল সেদ্ধ করে ঠান্ডা হয়ে গেলে ওই পানি নিয়মিত চুলে লাগান।

জবা ফুল দিয়ে ত্বকের পরিচর্যা

জবা ফুলের উপকারিতা জেনে হোন আপনি অনন্যা ও প্রাণবন্ত। জবা ফুল সব সময় হাতের কাছে পাওয়ার জন্য আপনি কিন্তু ফুলগুলোকে শুকিয়ে কৌটায় সংগ্রহ করতে পারেন । প্রথমে টোনার বানাতে কিছু জবা ফুলের সাথে হাফ কাপ গোলাপজল দিয়ে ঢেকে রাখবেন চার থেকে পাঁচ ঘন্টা । আবার চাইলে সারারাতও রাখতে পারেন । এই টোনার পোরস বা লোমকূপ পরিষ্কার করবে। ব্রণ যাদের হয় তাদের জন্য এই টোনার খুব ভালো কাজ করে থাকে।

এই টোনারটা লোমকূপকে সংকুচিত করতে সাহায্য করবে । স্কিনকে টানটান করবে এবং মেছতা সহ ত্বকের যে কোন কালো দাগকে দূর করবে । আর জবার ইনফ্লামেটরি প্রপার্টি তাকে যেকোনো ক্ষতকে তাড়াতাড়ি শুকাতে সাহায্য করে । জবা ফুল দিয়ে জেল বানালে সেটিও ত্বকের জন্য বেশ উপকারী হয়ে থাকে । জেল বানাতে একটা প্যানের মধ্যে দশ থেকে পনেরোটা জবা ফুলের পাপড়ি নিয়ে নিন । এর মধ্যে ২৪০ মিলি পানি দিয়ে দিন ।

জবা-ফুলের-উপকারিতা

আসলে সেখানে হাফ চামচ আগার আগার দিয়ে দিন । মিশ্রণটি যখন ঘন হয়ে আসবে তখন নামিয়ে নিয়ে গরম গরম থেকে কৌটায় সংরক্ষণ করুন এবং এর মধ্যে কয়েকটি ই ক্যাপ কেটে রস টি দিন সঙ্গে ভিটামিন সি ট্যাবলেট দিয়ে নাড়াচাড়া খুব ভালোভাবে করে মিশিয়ে নিন । দেখবেন ঠান্ডা হলে যে লাকড়িটির হয়ে যাবে । ত্বকে দিনে দুইবার এই জেল ব্যবহার করবেন এবং জেল ব্যবহার করার পূর্বে অবশ্যই উপরের তৈরি টোনার ব্যবহার করবেন তাহলে অবশ্যই ১০০% রেজাল্ট পাবেন । 

জবা ফুল ও পাতার স্বাস্থ্য অপকারিতা

জবা ফুলের উপকারিতা জানা থাকলে আপনি একজন সচেতন ব্যক্তি হিসেবে নিজেকে বাড়ির আশেপাশে থেকে তার সংগ্রহ করে সুস্থ থাকতে পারবেন অনায়াসে । সামান্য ছোটখাটো শারীরিক সমস্যা ত্বকের সমস্যা এই জটিলতা গুলো দেখা দিলে আপনি তা জবা ফুল ও পাতা দিয়ে নিরসন করতে পারবেন খুব সহজেই । তবে যেকোনো ধরনের ঔষধ গ্রহণ করার পূর্বে সচেতন হতে হবে । আর যদি সেটা ভেষজ উদ্ভিদ হয়ে থাকে তাহলে আরেকটু বেশি আপনাকে সচেতন হওয়া উচিত ।

না জেনে বুঝে যে কোন ভেষজ উদ্ভিদ ঔষধ হিসেবে সেবন করলে শারীরিক জটিলতা দেখা দিতে পারে । যাবা ফুল ও পাতার উপকারিতার পাশাপাশি অপকারিতা রয়েছে অনেক । একথাও সত্যি যে প্রতিটি জিনিসে উপকারিতার পাশাপাশি কম বা বেশি পরিমাণে হলে তা অপকারিতা হিসেবেও গ্রহণযোগ্য হয়ে থাকে । অপকারিতা গুলো জবা ফুল ও পাতার নিম্নে আলোচনা করা হলোঃ

  • লো ব্লাড প্রেসার যাদের আছে তারা জবা পাতার রস খাওয়ার ব্যাপারে সচেতন থাকবেন ।
  • যাদের অ্যালার্জির সমস্যা রয়েছে এমন ব্যক্তিদের জবা ফুল ও পাতার রস সেবন না করাই ভালো।
  • পরিমাণের বেশি ফুল ও পাতার রস খাওয়া থেকে বিরত থাকুন। এতে হয়তো বমি বমি ভাব আসতে পারে।
  • জবা ফুল ও পাতার রস অনেক বেশি ঠান্ডা হওয়ার কারণে ফুসফুর জনিত সংক্রমণ বাড়িয়ে দিতে পারে।

শেষ কথাঃ জবা ফুলের উপকারিতা

রূপচর্চায় ও চুলচর্যায় জবা ফুলের ব্যবহার সেই প্রাচীনকাল থেকে হয়ে আসছে । জবা স্কিনকে উজ্জ্বল করে । ময়শ্চারাইজ করে । স্কিনের দাগ দূর করে । বলিরেখা দূর করে । এক কথায় আমাদের স্কিনের এমন কোন সমস্যা নেই যেটা জবা ফুল ও পাতা ঠিক করতে হেল্প না করছে । তবে ব্যবহার করা জানতে হবে । এবং জেল বানিয়ে নেব এবং এই টোনার এবং জেল স্কিনের এমন কোন সমস্যা নেই যেটাতে কাজ করবে না । বিশেষ করে ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে হেল্প করবে ।

জবা ফুলের জেল ও টোনার ত্বককে ময়চ্চারাইজ করে ত্বকে আদ্রতা ধরে রাখবে । যাতে করে বয়সের ছাপ স্কিনে পড়তে না পারে । শুধু তাই নয় , রূপচর্চা ও চুলচর্চার পাশাপাশি শারীরিক সমস্যা দূর করতে জবা পাতার ও ফুলের ভূমিকা অশেষ । জবা পাতার রস ওজন কমাতে সাহায্য করে । এই পাতার রস উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে বেশ উপকারী । পিত্তথলিতে পাথর অপসারণে এটি কাজ করে থাকে । কিডনি রোগীদের জন্য জবা পাতার রস এক আশীর্বাদস্বরূপ । তবে সবকিছুই পরিমাণমতো ব্যবহারবিধি জেনে নিয়ে তা করতে হবে ।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

আপনার মূল্যবান মতামত দেন। এখানে প্রতিটি মতামতের রিভিউ প্রদান করা হয়।

comment url